বিজ্ঞাপন
নিহত আবুল বাশার নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের ভবানী জীবনপুর গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে। স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে তিনি সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।
নিহতের ভাই মনির হোসেন ও মহিন উদ্দিন অভিযোগ করেন, গত ১৪ জানুয়ারি (বুধবার) গভীর রাতে লক্ষ্মীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল বাশারকে তার নিজ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। অভিযানকালে পুলিশ বাড়ি থেকে ১ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ২০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে গেছে বলেও তারা দাবি করেন।
পরিবারের অভিযোগ, গ্রেপ্তারের পর টানা দুই দিন থানায় আটকে রেখে বাশারের ওপর অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। পরবর্তীতে তাকে একটি ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. নজরুল ইসলাম জানান, গত ১৬ জানুয়ারি ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তার বাশারকে কারাগারে আনা হয়। তিনি আরও জানান, “নিহতের দুই কেইস পার্টনার (সহ-আসামি) আমাকে জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর ডিবি পুলিশ বাশারকে থানায় নিয়ে প্রচণ্ড মারধর করেছে। বিষয়টি জানার পর আমরা তাকে কারা হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলাম।”
কারা সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে বাশারের তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। বুধবার ভোরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নির্যাতন ও লুটের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোর্শেদ আলমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি আদালতে থাকার অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং পরে কথা বলবেন বলে জানান।
কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে। প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এদিকে একজন সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মীর এমন মৃত্যুতে এলাকায় উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...