Logo Logo

সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই–শাল্লা) আসন

কে হচ্ছেন আগামী দিনের কাণ্ডারি? নাছির না শিশির


Splash Image

সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই–শাল্লা) আসনে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে দুটি নাম— ভাটির শার্দূল খ্যাত সাবেক সংসদ সদস্য, প্রবীণ রাজনীতিক নাছির উদ্দিন চৌধুরী এবং নির্বাচনী রাজনীতিতে তুলনামূলক নতুন মুখ, আইনজীবী মুহাম্মদ শিশির মনির। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই দুই নেতাকে ঘিরেই জমে উঠেছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ ও রাজনৈতিক উত্তাপ।


বিজ্ঞাপন


চায়ের দোকান থেকে শুরু করে দলীয় বৈঠক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও তৃণমূলের আড্ডা—সবখানেই ঘুরছে একটাই প্রশ্ন: অভিজ্ঞতার ভারে ভারী নাছির, নাকি নতুন নেতৃত্বের প্রতীক হয়ে উঠতে থাকা শিশির—কে হবেন দিরাই–শাল্লার আগামী দিনের কাণ্ডারি?

দিরাই–শাল্লা আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এই আসন থেকে টানা সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিক বাবু শ্রী সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত। তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, অনুসারী ও প্রভাব এখনো এ অঞ্চলের রাজনীতিতে বড় একটি ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত।

এই বাস্তবতায় সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের অনুসারীদের সমর্থন নিজেদের দিকে টানতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে আলোচিত আইনজীবী মুহাম্মদ শিশির মনির। তরুণ, শিক্ষিত এবং পেশাগত পরিচয়ের কারণে নতুন ভোটার ও পরিবর্তনমুখী অংশের কাছে তিনি আগ্রহের নাম হয়ে উঠলেও, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেক প্রবীণ ভোটার ও স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক।

অন্যদিকে, প্রবীণ রাজনীতিক নাছির উদ্দিন চৌধুরী এই নির্বাচনকে নিজের জীবনের শেষ নির্বাচনী লড়াই হিসেবে তুলে ধরছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, আন্দোলন–সংগ্রামের অভিজ্ঞতা এবং এলাকার মানুষের সঙ্গে পুরোনো সম্পর্ককে পুঁজি করে তিনি ভোট চাইছেন আবেগ, দায়বদ্ধতা ও স্থিতিশীল নেতৃত্বের বার্তা দিয়ে।

তবে ভোটারদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে দ্বিধা। অনেকেই বলছেন, এটি এমন একটি নির্বাচন যেখানে “হুটহাট সিদ্ধান্ত” নেওয়ার সুযোগ নেই। একজনের ক্ষেত্রে রয়েছে অভিজ্ঞতা ও অতীতের মূল্যায়ন, অন্যজনের ক্ষেত্রে নতুনত্ব ও ভবিষ্যতের প্রত্যাশা—এই দুইয়ের মাঝখানে পড়ে ভোটাররা কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হচ্ছেন।

নির্বাচনী এলাকা ঘুরে স্থানীয় কর্মী–সমর্থক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের সঙ্গে কথা বলে যে আভাস পাওয়া যাচ্ছে, তাতে এখনই নিশ্চিতভাবে এগিয়ে–পিছিয়ে থাকা নির্ধারণ করা কঠিন। তৃণমূল পর্যায়ে কখনো নাছিরের প্রতি আস্থা বাড়ছে, আবার কখনো শিশিরকে ঘিরে বাড়ছে কৌতূহল ও আলোচনা।

দলীয় অঙ্ক, অতীতের ভোটের হিসাব, প্রভাবশালী নেতাদের অবস্থান এবং শেষ মুহূর্তের সমীকরণ—সব মিলিয়ে দিরাই–শাল্লার রাজনীতি এখন এক অনিশ্চিত কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে।

সবশেষে বলা যায়, দিরাই–শাল্লার এই নির্বাচনী লড়াই কেবল দুই ব্যক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়; এটি অভিজ্ঞতা বনাম নতুনত্ব, অতীতের উত্তরাধিকার বনাম ভবিষ্যতের প্রত্যাশার এক প্রতীকী সংঘর্ষ। আগামী দিনে কার হাতে উঠবে এই জনপদের নেতৃত্বের ভার—নাছির, নাকি শিশির—সে উত্তর দেবে ভোটের রায়ই।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...