বিজ্ঞাপন
র্যাব জানায়, গতকাল বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১১টা ৫০ মিনিটে র্যাব-১০ এর সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল র্যাব-১২-এর সহযোগিতায় কুষ্টিয়ার আল্লারদরগা বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ফিরোজ মিয়াকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামির বাড়ি ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা থানার মধ্যগজদিয়া গ্রামে। তার পিতার নাম লাল মিয়া।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব আরও জানায়, গত ১ জানুয়ারি সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের সোনাখোলা গ্রামে ফরিদপুর–ভাঙ্গা মহাসড়কের নারায়ণখালী ব্রিজের উত্তর পাশে ঢালসংলগ্ন একটি ডোবায় স্থানীয়রা একজন অজ্ঞাত পরিচয় পুরুষের মরদেহ দেখতে পায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, নিহত ব্যক্তি জিন্স প্যান্ট ও টি-শার্ট পরিহিত ছিলেন। তার হাত-পা বাঁধা ছিল এবং চোখ ও মুখ স্কচটেপ দিয়ে আটকানো অবস্থায় পাওয়া যায়। পাশাপাশি মরদেহটির গলা কাটা ছিল, যা ঘটনাটিকে নৃশংস ও রহস্যজনক হিসেবে চিহ্নিত করে। এ ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
র্যাবের নিবিড় তদন্ত ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় জানা যায়, নিহত ব্যক্তির নাম আলী মোল্লা (৩৪)। গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ সকালে তিনি আসামি ফিরোজ ও তার শ্যালক মমরেজের সঙ্গে একটি ট্রাকে করে গাজীপুরের উলুখোলায় অবস্থিত কৃষ্ণচূড়া ফিড মিলে যান। সেখানে মালামাল আনলোডের পর তারা বিভিন্ন স্থানে মালামাল লোড ও আনলোডের কাজ করেন।
পরদিন ৩১ ডিসেম্বর রাতে ফিরোজ ও মমরেজ মদের বোতল সংগ্রহ করে কৌশলে আলী মোল্লার পানীয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেন। একপর্যায়ে আলী মোল্লা বমি করে অচেতন হয়ে পড়েন। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় পৌঁছানোর পর আসামিরা তার হাত-পা বেঁধে ফেলে। জ্ঞান ফিরে এলে কারণ জানতে চাইলে স্কচটেপ দিয়ে তার মুখ আটকে দেওয়া হয়। পরে তারা আলী মোল্লার ওপর বসে হাতুড়ি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে তাকে অচেতন করে ফেলে।
র্যাব জানায়, ১ জানুয়ারি ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে ট্রাক থামিয়ে নারায়ণখালী ব্রিজের নিচে নিয়ে নিহতের গলায় গুরুতর আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। এরপর মরদেহটি ব্রিজসংলগ্ন ঢালের ডোবায় ফেলে দিয়ে আসামিরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
তদন্তে আরও জানা যায়, নিহত আলী মোল্লার কাছে আসামিদের আর্থিক পাওনা ছিল। এছাড়া মমরেজের ভাগ্নীর (তার বোনের আগের ঘরের মেয়ে) সঙ্গে আলী মোল্লার অবৈধ সম্পর্ক ছিল এবং এ সংক্রান্ত আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করেছিলেন আলী মোল্লা। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় আসামিরা।
গ্রেফতারকৃত ফিরোজ মিয়ার বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইনে দুটি মামলাসহ মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সন্ত্রাস, মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও সংগঠিত অপরাধ দমনে তারা বদ্ধপরিকর। র্যাবের প্রত্যাশা—জনগণের সহযোগিতা ও তথ্য প্রদান তাদের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...