Logo Logo

গ্রেপ্তার আতঙ্কে স্তব্ধ সুনামগঞ্জ

ভয়ভীতি বন্ধ না হলে ভোটকেন্দ্রে যাবে না মানুষ— প্রার্থীদের সতর্কবার্তা


Splash Image

আসন্ন গণভোট ২০২৬ ও সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জজুড়ে গ্রেপ্তার, মামলা ও ভয়ভীতির অভিযোগ উঠেছে। মাঠপর্যায়ে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রবিমুখ করা হলে গণভোট ও নির্বাচন—দুটিই প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। তাদের মতে, এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে মোট ভোটার উপস্থিতি ২০ শতাংশের নিচেও নেমে যেতে পারে।


বিজ্ঞাপন


গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে সুনামগঞ্জ ঐতিহ্য জাদুঘর প্রাঙ্গণে আয়োজিত গণভোট ২০২৬ সংক্রান্ত অবহিতকরণ সভায় প্রার্থীরা বর্তমান বাস্তবতাকে ‘নির্বিঘ্ন নির্বাচনের বড় অন্তরায়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুনামগঞ্জ–৩ আসনে খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মাওলানা শাহিনুর পাশা বলেন, তারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে থাকলেও এলাকায় গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। এতে ভোটারদের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এভাবে পরিস্থিতি চলতে থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তার এলাকায় যেন অহেতুক গ্রেপ্তার না হয়, সে দাবি জানান।

বিএনপির বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, একজন জনপ্রতিনিধিকে গ্রেপ্তার করে এক সপ্তাহ জেলে রাখা হয়েছে। এখন এলাকায় বলা হচ্ছে—এই দলকে ভোট দিলে গ্রেপ্তার করা হবে এবং এলাকায় থাকতে দেওয়া হবে না। এমন পরিবেশে মানুষ কীভাবে ভোট দিতে আসবে, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি। ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ভোটারদের ভোট থেকে দূরে সরিয়ে দিলে কোনোভাবেই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন।

সুনামগঞ্জ–৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন বলেন, সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে আয়োজন করা হয়েছে ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্যেই। কিন্তু মাঠপর্যায়ে প্রচার করা হচ্ছে—নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট না দিলে মামলা দেওয়া হবে কিংবা পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে। এতে ভোটার উপস্থিতি বাড়ার পরিবর্তে কমে যাওয়ার আশঙ্কাই বেশি।

জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. শামছ উদ্দিন অভিযোগ করেন, যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলা নেই, তাদের গ্রেপ্তার করে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ ভোটকেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, নির্দিষ্ট একটি দলের পক্ষে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে, যা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী শহিদুল ইসলাম পলাশী বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ, ইমাম ও ব্যবসায়ীরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অনেক ইমামকে নির্দিষ্ট মার্কায় ভোট না দিলে ইমামতি থাকবে না—এমন হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। ভয়ভীতি দেখিয়ে ভোট আদায় করা হলে নির্বাচন কোনোভাবেই বিশ্বাসযোগ্য হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সভা থেকে প্রার্থীরা একযোগে দাবি জানান, গ্রেপ্তার, হুমকি ও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা বন্ধ করে প্রশাসনকে অবশ্যই নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। অন্যথায় আসন্ন গণভোট ও সংসদ নির্বাচন জনআস্থার সংকটে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...