বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামে প্রচলিত চৌকিদারি বা গৃহকরকে ‘হোল্ডিং ট্যাক্স’ নামের আড়ালে এনজিওদের মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এমন ঘটনা স্থানীয় সরকার প্রশাসনের বাইরে, সাধারণ মানুষ সচেতন নয় এমন প্রত্যন্ত অঞ্চলে চলতে থাকায় হতদরিদ্রদের মধ্যে ভীতি ও চাপা ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে জানা যায়, ওই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে বাঁশের চাপড়া, টিনের দু’চালা বা চারচালা ঘর, আধাপাকা ও পাকা ঘর থেকে ৫০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এনজিও কর্মীরা হোল্ডিং ট্যাক্স না দিলে ভবিষ্যতে সরকারের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার হুমকি দিয়েছেন। অশিক্ষিত ও দরিদ্র জনগণ বাধ্য হয়ে ট্যাক্স প্রদান করেছেন।
একাধিক হোল্ডিং ট্যাক্স প্রদানকারী জানান, গ্রাম পুলিশসহ কয়েকজন লোক বাড়িতে এসে ট্যাক্স সংগ্রহ করেন। টাকা নেওয়ার পর একটি রশিদ দেন, কিন্তু তা সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে কিনা সাধারণ মানুষ জানতে পারছেন না।
ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ছলেমান আলী বলেন, হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের দায়িত্ব ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম, ওবায়দুল হক ও সচিবকে দিয়েছেন। তবে আদায়কৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করার বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, রশিদের সব অর্থ অনলাইনে জমা হয়নি, কিছু অংশ এখনও বাকি আছে। চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির কারণে অর্থ জমা প্রক্রিয়া কিছুটা পিছিয়ে গেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরু জানিয়েছেন, তিনি এই ঘটনায় অবগত নন, তবে ইউনিয়ন পরিষদ সচিবকে ডেকে বিষয়টি যাচাই করবেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রশাসনিক অস্পষ্টতা রাজনীতিক ও সামাজিকভাবে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে। বিশেষত নির্বাচনের আগে এমন ঘটনা জনমনে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...