Logo Logo

নানা জল্পনা-কল্পনা শেষে হাইকোর্টের রায়ে নির্বাচনী প্রতীক পেলেন জেলবন্দি কাবির মিয়া


Splash Image

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নানা নাটকীয়তা ও জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আদালতের রায়ে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন গোপালগঞ্জ-১ আসনের গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত প্রার্থী কাবির মিয়া। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে গোপালগঞ্জের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ দেন।


বিজ্ঞাপন


নির্ধারিত দিনে রিটার্নিং অফিসার মোট ২৮ জন প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছিলেন। পরে হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে কাবির মিয়াকে প্রতীক দেওয়া হলে জেলায় প্রতীকপ্রাপ্ত প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ২৯ জনে। তার প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে গোপালগঞ্জ-১ আসনের নির্বাচনী মাঠে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা ও হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে।

এর আগে ঋণখেলাপির অভিযোগে রিটার্নিং কর্মকর্তা কাবির মিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনে আপিল করলেও সেখানেও মনোনয়ন বাতিল বহাল থাকে। এ সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কাবির মিয়ার পক্ষে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে মঙ্গলবার হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। আদালতের লিখিত আদেশ পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় দ্রুত প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে বৃহস্পতিবার তাকে প্রতীক বরাদ্দ দেয়।

গোপালগঞ্জ জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্র জানায়, আদালতের নির্দেশনা অনুসারে কাবির মিয়ার মনোনয়ন বহাল রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেন।

কাবির মিয়ার আইনজীবীদের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার মাধ্যমে তাকে হয়রানি করা হয়েছে এবং পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরিয়ে দিতেই মনোনয়ন বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

মনোনয়ন ফিরে পাওয়া ও প্রতীক বরাদ্দের খবরে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ও উৎসাহ দেখা গেছে। দলটির জেলা শাখার সাবেক সভাপতি আলামিন সরদার একে “আইনের শাসনের বিজয়” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আদালতের রায়ে প্রমাণিত হয়েছে—অন্যায়ভাবে কাউকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া যায় না।

অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের শিবিরে বিষয়টি নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও নতুন করে ভোটের হিসাব-নিকাশ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কাবির মিয়ার নির্বাচনে অংশগ্রহণ গোপালগঞ্জ-১ আসনের ভোটের সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার মধ্য দিয়ে কাবির মিয়া এখন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারে নামতে পারবেন। যদিও তিনি বর্তমানে কারাবন্দি, তবুও তার পক্ষে দলীয় নেতাকর্মীরা মাঠে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

গণঅধিকার পরিষদের জেলা কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাআদ শিকদার জানান, কাবির মিয়া মুকসুদপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে এলাকায় তার একটি সুসংগঠিত ভোটভিত্তি রয়েছে। নানা উত্থান-পতনের মধ্যেও তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্ক বজায় রেখেছেন, ফলে তার প্রার্থিতা পুনর্বহাল হওয়ায় স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কাবির মিয়া বিভিন্ন পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় এলাকায় একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে তিনি বরইতলা–মুকসুদপুর–কাশিয়ানী আঞ্চলিক বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এসব পরিচয়ের কারণে তার রাজনৈতিক প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে দৃশ্যমান।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাবির মিয়া গোপালগঞ্জ-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খানের বিরুদ্ধে লড়ে প্রায় লক্ষাধিক ভোট পেয়ে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। ওই ফলাফলকে তার জনপ্রিয়তার বড় প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কাবির মিয়ার মনোনয়ন বৈধ হওয়ায় গোপালগঞ্জ-১ আসনের ভোটের লড়াই আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে কারাবন্দি অবস্থায় তার প্রার্থিতা বহাল থাকা নির্বাচনী রাজনীতিতে এক ভিন্ন ও নজরকাড়া মাত্রা যোগ করেছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...