বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি নিজের অবস্থান ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “আপনারা আমার দায়িত্ব নেবেন। আমাকে পরামর্শ দেবেন, পাশে থাকবেন। যেকোনো বিষয়ে উপদেশ দিবেন। প্রতিদিন আমার কাজের চিত্র আপনাদের সামনে আসবে। যদি কোনো কাজ, আচরণ কিংবা বক্তব্য ভুল মনে হয়, আমাকে সরাসরি বলবেন। কারণ আমি মানুষ—ভুল হতেই পারে, আর সেই ভুলগুলো আপনারাই সংশোধন করে দেবেন।”
মতবিনিময় সভায় কামরুল বলেন, দলের চূড়ান্ত মনোনয়নকে ঘিরে অনেক যোগ্য নেতার মধ্যে প্রতিযোগিতা হয়েছে। কেউ তাকে পছন্দ করেছেন, আবার কেউ অন্য প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছেন—এটাই রাজনীতির স্বাভাবিক বাস্তবতা। তবে শেষ পর্যন্ত দলের সিদ্ধান্তই সবার জন্য চূড়ান্ত।
তিনি আরও বলেন, “দলের চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার পর আমি সঙ্গে সঙ্গে আনিসুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। উনার বাসায় গিয়েছি। আগামীকাল থেকেই আমরা দুই ভাই একসঙ্গে রাজনৈতিক কাজ শুরু করবো। উনি আমার বড় ভাইয়ের মতো। এর আগেও মাহবুব ভাইয়ের সঙ্গে বসেছি। তিনি ২৬ তারিখ এসে নির্বাচন পর্যন্ত মাঠে থাকবেন। সালমা ভাবির বাসায় গিয়েছি, মোতালিব ভাই ও লিটন আফিন্দি মামাকে নিয়ে মিছিল করেছি। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ।”
কামরুল জানান, যেসব কর্মী-সমর্থক আগে অন্য প্রার্থীদের সঙ্গে ছিলেন, তাদেরও বুকে টেনে নিয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করা হবে। তিনি বলেন, “এই নির্বাচন ঐক্যের নির্বাচন। ব্যক্তিগত কোনো হিসাব নয়, দল ও জনগণের স্বার্থই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।”
টাঙ্গুয়ার হাওর প্রসঙ্গে কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, বর্তমানে হাওর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের হাতে থাকলেও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে প্রতিবছর অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। বিপুল পরিমাণ বরাদ্দ এলেও তা লুটপাটের শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষায়, “এই লুটপাট বন্ধ করতে হবে। টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষা করে পরিকল্পিত পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। সুনামগঞ্জ-১ আসনকে সুন্দরভাবে সাজানো গেলে দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে আরও বেশি পর্যটক এখানে আসবে।”
অতীত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “২০১৬ সালে আমিই প্রথম জ্যোছনা উৎসবের আয়োজন করি। এরপর টাঙ্গুয়া হাওর, শহীদ সিরাজ লেক, যাদুকাটা নদী, বড়গোপ টিলা, শিমুলবাগান দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করে। এর ফলে কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কামরুল আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে পর্যটন খাতকে আরও বিকশিত করা হবে এবং স্থানীয় জনগণের জন্য নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। সুনামগঞ্জকে একটি পরিকল্পিত পর্যটন অঞ্চলে রূপান্তর করাই তার লক্ষ্য।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জুনাব আলী, মেহেদী হাসান উজ্জ্বল, জামালগঞ্জের সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আজাদ হোসেন বাবলু, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এটিএম হেলাল, বিএনপি নেতা মাসুম মাহমুদ তালুকদারসহ স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...