কৃষ্ণাদিয়া শেখ আব্দুর রাজ্জাক আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সাইফুল ইসলাম।
বিজ্ঞাপন
উপজেলার কৃষ্ণাদিয়া শেখ আব্দুর রাজ্জাক আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সাইফুল ইসলামের (৫৫) বিরুদ্ধে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার অভিযোগ তুলে ভুক্তভোগী পরিবার মুকসুদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
হামলার শিকার ভুক্তভোগী বেবী বেগম (৫০) জানান, অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলামের সঙ্গে তাঁদের বসতবাড়ির জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এর জের ধরে গত রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাদ্রাসা চলাকালীন সময়ে অধ্যক্ষ ১০-১২ জন ছাত্র নিয়ে তাঁদের বাড়িতে অনাধিকার প্রবেশ করেন। তারা বাড়ির সীমানা প্রাচীর ও বেড়া ভাঙার চেষ্টা করলে বেবী বেগম ও তাঁর মেয়ে বণ্যা মৃধা (২১) বাধা দেন। এসময় অধ্যক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে মা ও মেয়েকে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে শারীরিক লাঞ্ছিত করেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। যাওয়ার সময় তিনি ভুক্তভোগীদের হাত-পা ভেঙে পঙ্গু করা ও হত্যার হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত অধ্যক্ষের নির্দেশে অভিযানে অংশ নেওয়া ছাত্ররা জানায়, হুজুর (অধ্যক্ষ) তাদের রুম থেকে দা ও কাঁচি আনতে বলেন। ক্রীড়া প্রতিযোগিতার কাজের কথা বলে নিয়ে গিয়ে তিনি তাঁদেরকে অন্যের জমির বেড়া কাটার নির্দেশ দেন। তবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত দেখে তারা কাজ বন্ধ করে দেয়। ছাত্ররা জানায়, ওই সময় অধ্যক্ষের সাথে বাড়ির মালিকদের বাগবিতণ্ডা ও ঝামেলার সৃষ্টি হয়।
অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মাওলানা সাইফুল ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, "আমার জায়গার ওপর ঘর নির্মাণ করার সময় আমি শুধু জিজ্ঞাসা করতে গিয়েছিলাম। তখন তারাই আমার ওপর চড়াও হয়েছে।"
মাদ্রাসার সভাপতি শেখ নাজিম উদ্দিন বলেন, "মাদ্রাসা চলাকালীন সময়ে এমন ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমি ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখেছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই মামলা চলার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে নারীদের ওপর হামলার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...