বিজ্ঞাপন
সরকারি সেবাকে প্রযুক্তিবান্ধব ও জনমুখী করার ওপর জোর দিয়ে ড. ইউনূস বলেন, লক্ষ্য একটাই—নাগরিক কোনো প্রয়োজনে সরকারের দ্বারে ঘুরবে না, বরং সরকারের সেবা নাগরিকের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে। এই লক্ষ্য অর্জনে কর্মকর্তাদের গৎবাঁধা বা মান্ধাতা আমলের প্রশিক্ষণের পরিবর্তে ‘প্রবলেম সলভিং’ বা সমস্যা সমাধানমূলক প্রশিক্ষণে দক্ষ করে তোলার নির্দেশ দেন তিনি। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট (জিআইইউ), জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) কারিগরি সহায়তায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত পাঁচটি শীর্ষ প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের ওপর এই মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি করে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—বিপিএটিসি, বিসিএস প্রশাসন একাডেমি, বিয়াম ফাউন্ডেশন, নাডা এবং এনএপিডি।
প্রশাসনিক সংস্কার ও দক্ষতার উন্নয়নে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠানে বড় ভবন থাকলেও দক্ষ জনবলের অভাব রয়েছে। এই অচলায়তন ভাঙতে হবে। তিনি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে ভালো ফলাফলের ভিত্তিতে ইনসেনটিভ বা উদ্দীপনা প্রদানের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক র্যাংকিং করার প্রস্তাব দেন। এমনকি বেসরকারি কর্মকর্তারাও যাতে সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ নিয়ে গর্ববোধ করেন, তেমন মানসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি। উল্লেখ্য, গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রশিক্ষণ কাউন্সিলের সভায় জনপ্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধির যে নির্দেশনা প্রধান উপদেষ্টা দিয়েছিলেন, তার আলোকেই প্রথমবারের মতো এই ‘লার্নিং বাই ডুয়িং’ পদ্ধতির মূল্যায়ন করা হলো।
বৈঠকে কমিটির সদস্যরা জানান, একাডেমিয়া ও সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ওয়ার্কিং গ্রুপের মতামতের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লিখিত সুপারিশমালা বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মচারীদের দক্ষতা বাড়বে এবং জনসেবা আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজউদ্দিন মিয়া, এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...