বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) উত্তর ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্র্যাগ সামরিক ঘাঁটিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরান শুধু আলোচনার টেবিল দখল করে রেখেছে, কিন্তু কোনো কার্যকর সমাধান আসেনি। তাদের এই আলোচনার আড়ালে আমরা অনেক কিছু হারিয়েছি। আমাদের অনেক সৈন্য প্রাণ হারিয়েছে, কেউ পঙ্গু হয়েছে কিংবা ভয়াবহ আঘাতের শিকার হয়েছে। তাই এখন শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনই হবে সবচেয়ে ভালো সমাধান।
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, তারা যদি সঠিক ও কার্যকর কোনো চুক্তিতে আসে, তবে আমরা সামরিক পদক্ষেপ বা হামলার পথে হাঁটব না। কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে তারা কখনো সঠিক চুক্তিতে আসেনি। তারা শুধু কথা বলতেই জানে, কাজের বেলায় কোনো পদক্ষেপ নেয় না। তিনি মনে করেন, একবার যদি একটি স্থায়ী ও সঠিক চুক্তি করা সম্ভব হয়, তবে তা সবার জন্যই মঙ্গলজনক হবে।
ইরানের বর্তমান সরকার পরিবর্তন হলে ক্ষমতায় কে আসবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি কোনো নাম উল্লেখ না করে বলেন, এ বিষয়ে তিনি এখন মন্তব্য করতে চান না। তবে এই দায়িত্ব নেওয়ার জন্য যোগ্য মানুষ সেখানে আছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
এদিকে তেহরানের সঙ্গে চলমান এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি জানান, আরবসাগরে আগে থেকে অবস্থানরত বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’-এর সঙ্গে যুক্ত হতে শীঘ্রই দ্বিতীয় রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাবে। ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, যদি কোনো সমঝোতা বা চুক্তি না হয়, তবে এই বিশাল সামরিক শক্তির প্রয়োজন পড়বে।
দ্বিতীয় এই রণতরী মোতায়েনের ঘোষণা এমন এক সময় এল যখন ওমানসহ বিভিন্ন পরোক্ষ মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার চেষ্টা চলছে। তবে এসব আলোচনায় এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট সমঝোতা অর্জিত হয়নি। অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকেও সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তারা যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলায় এবং যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...