বিজ্ঞাপন
নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে দেশে তরুণ ভোটারের সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে চার কোটি। অন্যদিকে নারী ভোটারের সংখ্যা ছয় কোটিরও বেশি, যা পুরুষ ভোটারের সংখ্যার প্রায় সমান। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং সিদ্ধান্তই নির্বাচনী ফলাফলের গতিপথ নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নির্বাচনের আগেই এই দুই শ্রেণিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। সেই গুরুত্বের প্রতিফলন দেখা গেছে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী কৌশলেও। তরুণ ও নারীদের আকৃষ্ট করতে দলগুলো তাদের ইশতেহারে বিশেষ প্রতিশ্রুতি যুক্ত করেছিল এবং তুলনামূলকভাবে বেশি তরুণ ও নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছিল। অনেক এলাকায় তরুণ সমর্থকদের সরাসরি সম্পৃক্ত করে প্রচারণা চালানোর কৌশলটি ভোট পাওয়ার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।
তবে মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণে ভোটার শিক্ষার ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতাও ফুটে উঠেছে। অনেক কেন্দ্রে দেখা গেছে, তরুণ ও নারী ভোটারদের একটি অংশের মধ্যে ব্যালট ভাঁজ করা বা সঠিকভাবে সিল দেওয়ার বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা ছিল না। এর ফলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট বাতিল হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ভোটার সচেতনতা কার্যক্রম চললেও তা সমাজের সব স্তরে সমানভাবে পৌঁছাতে পারেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল ভোট দেওয়ার কৌশল শেখানোই যথেষ্ট নয়; গণতন্ত্রের মূল চেতনা এবং সঠিক প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়ে ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে ভোটাররা এখনো স্থানীয় প্রভাব বা প্ররোচনার শিকার হন। স্বাধীন ও তথ্যভিত্তিক ভোটের চর্চা পুরোপুরি নিশ্চিত করা এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভবিষ্যৎ নির্বাচনে একটি শক্তিশালী ও নিখুঁত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং দেশি-বিদেশি সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে তরুণ ও নারী ভোটারদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ও লক্ষ্যভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা গেলে দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা আরও অর্থবহ হয়ে উঠবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...