Logo Logo

নতুন এমপির হস্তক্ষেপে টুঙ্গিপাড়ায় ভ্যানের টোল আদায় বন্ধ


Splash Image

“সকালবেলা খালি পকেটে ভ্যান নিয়ে বের হয়েছি। হঠাৎ ভ্যান থামিয়ে টোলের টাকা চায় ইজারাদারের লোকজন। পরে দিচ্ছি বললেও ছাড়ে না—১০ টাকা না দিলে যেতে দেবে না।” টুঙ্গিপাড়া উপজেলা পরিষদের সামনে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলছিলেন লেবুতলা গ্রামের ভ্যানচালক মোস্তাইন শেখ।


বিজ্ঞাপন


তিনি জানান, একসময় নিরুপায় হয়ে পরিচিত এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১০ টাকা ধার করে টোল পরিশোধ করতে হতো। তবে গত দুই দিন ধরে সেই চিত্র বদলেছে। ভ্যানচালকদের কাছ থেকে আর টোল নিচ্ছে না ইজারাদারের লোকজন। স্থানীয়দের দাবি, এস এম জিলানী—গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য—ভ্যানচালকদের কাছ থেকে টোল আদায় বন্ধের নির্দেশ দেওয়ায় এ পরিবর্তন এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮-১৯ সাল থেকে টুঙ্গিপাড়া পৌরসভা এলাকায় ভ্যান প্রবেশ করলেই ১০ টাকা করে টোল দিতে হতো। পৌর এলাকার বালাডাঙ্গা ব্রিজ, পাটগাতী বাসস্ট্যান্ডের দুই পাশ এবং পাটগাতী বাজার এলাকায় ইজারাদারের লোকজন দাঁড়িয়ে ভ্যানচালকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করত। যাত্রী থাকুক বা না থাকুক, আয় হোক বা না হোক—প্রতিদিনই দিতে হতো এই টোল।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী নির্বাচিত হওয়ার পর ১৫ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করেন। এরপর ইজারাদারকে ভ্যানচালকদের কাছ থেকে টোল না নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

পাচকাহনিয়া গ্রামের ভ্যানচালক তুহিন শেখ বলেন, “রোজগার হোক বা না হোক, ১০ টাকা দিতেই হতো। পরে দিচ্ছি বললেও ছাড়ত না। এখন দুই দিন ধরে টাকা নিচ্ছে না—এতে আমরা খুব স্বস্তিতে আছি।”

চিতলমারীর কুনিয়া গ্রামের সেলিম মোল্লা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা টোল বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছিলাম। নতুন এমপির নির্দেশে তা বন্ধ হয়েছে। এতে আমরা খুশি। চৌরঙ্গী ব্রিজের টোলটাও বন্ধ হলে আরও ভালো হয়।”

জোয়ারিয়া গ্রামের ভ্যানচালক অনিমেষ জানান, টোলের ১০ টাকা তুলতে গিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকেও বেশি ভাড়া নিতে হতো। এতে প্রায়ই যাত্রীদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক হতো। এখন টোল না থাকায় কম ভাড়া নেওয়া সম্ভব হবে।

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এস এম জিলানী বলেন, “নির্বাচনের আগে গণসংযোগে গেলে অধিকাংশ ভ্যানচালক টোলের বিষয়টি তুলতেন। তখন কথা দিয়েছিলাম নির্বাচিত হলে বিষয়টি দেখবো। টুঙ্গিপাড়ার খেটে খাওয়া মানুষের ওপর যেন অযৌক্তিক আর্থিক চাপ না থাকে, সে জন্য জেলা প্রশাসক ও ইউএনও’র সঙ্গে আলোচনা করে ইজারাদারকে ভ্যানচালকদের কাছ থেকে টোল নিতে নিষেধ করেছি। সাধারণ মানুষ ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেছে—তাই মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতেও খেটে খাওয়া মানুষের স্বার্থে জনকল্যাণমূলক কাজ অব্যাহত থাকবে।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহিরুল আলম জানান, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করে ভ্যানচালকদের কাছ থেকে টোল আদায় বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্তমানে ইজারাদারের মেয়াদ শেষ হলে নতুন করে টেন্ডার আহ্বান করা হবে। তখন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

টোল আদায় বন্ধের ফলে টুঙ্গিপাড়ার বিভিন্ন এলাকার শত শত ভ্যানচালকের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তাদের প্রত্যাশা—এই সিদ্ধান্ত যেন স্থায়ী রূপ পায় এবং ভবিষ্যতে আর কোনো অযৌক্তিক আর্থিক চাপের মুখে পড়তে না হয়।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...