বিজ্ঞাপন
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় উপজেলার বুধহাটা বাজারে আনোয়ার হোসেন স্মৃতিস্তম্ভ সংলগ্ন এলাকায় 'আনোয়ার হোসেন স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটি'র উদ্যোগে এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।
স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক সচ্চিদানন্দ দে সদয়ের সভাপতিত্বে এবং বুধহাটা আঞ্চলিক প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান ইকবাল মামুনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে প্রধান আলোচক ও বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক কল্যাণ ব্যানার্জি।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন আশাশুনি প্রেসক্লাবের সভাপতি ও স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটির সদস্য সচিব এস কে হাসান, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও জজ কোর্টের এপিপি অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম, আনারুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ, রেজাউল ইসলাম এবং সাংবাদিক ইয়াসিন আরাফাত, বাবুল হোসেন, ফারুক হোসেন ও আবু হাসান চঞ্চলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
মানববন্ধনে বক্তারা শহীদ আনোয়ার হোসেনের সংগ্রামী জীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা গ্রামের এই বীর সন্তান ১৯৩০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৬ সালে খুলনা জেলা স্কুল থেকে এসএসসি পাসের পর বিএল কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ খুলনার গান্ধী পার্কে ভাষা আন্দোলনের পক্ষে ইশতেহার পাঠের অভিযোগে তিনি প্রথমবার গ্রেপ্তার হন। পরবর্তীতে ১৯৪৯ সালে পুনরায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি রাজশাহী কারাগারে অন্তরীণ হন। সেখানে ১৯৫০ সালের ২৪ এপ্রিল রাজশাহী জেলের ঐতিহাসিক ‘খাপড়া ওয়ার্ডে’ পাকিস্তান সরকারের গুলিবর্ষণের ঘটনায় সাতজন কারাবন্দির সঙ্গে আনোয়ার হোসেনও শাহাদাতবরণ করেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, মাতৃভাষার অধিকার রক্ষায় ১৯৫২ সালের আগেই আত্মদানকারী এই মহান বীরকে এখনো রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রথম ভাষা শহীদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। তারা অবিলম্বে আনোয়ার হোসেনকে দেশের প্রথম ভাষা শহীদ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদানের জোর দাবি জানান। একইসঙ্গে আশাশুনি-সাতক্ষীরা সড়ক ও আশাশুনি সরকারি কলেজ এবং বুধহাটা কলেজিয়েট স্কুলের নাম শহীদের নামে পরিবর্তন করার আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়াও দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে শহীদ আনোয়ার হোসেনের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ এবং তাঁর স্মৃতি রক্ষার্থে সরকারিভাবে একটি ট্রাস্ট গঠনের জন্য সরকারের নিকট বিশেষ অনুরোধ জানান বক্তারা। তারা হুঁশিয়ারি দেন, এই যৌক্তিক দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
প্রতিবেদক- মোঃ মোকাররাম বিল্লাহ ইমন, সাতক্ষীরা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...