Logo Logo

রক্তস্নাত একুশে ফেব্রুয়ারি আজ, বিনম্র শ্রদ্ধায় ভাষা শহীদদের স্মরণ করছে জাতি


Splash Image

আজ ঐতিহাসিক ২১ ফেব্রুয়ারি, মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। পলাশ-শিমুল ফোটা এই দিনে বাঙালি জাতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করছে সেই বীর সন্তানদের, যারা ১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় রাজপথে অকাতরে প্রাণ বিলিয়ে দিয়েছিলেন। আজ সারা দেশে সবার কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে চিরভাস্বর সেই গান— ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি?’


বিজ্ঞাপন


বাঙালির এই গৌরবোজ্জ্বল আন্দোলনের আজ ৭৪ বছর পূর্ণ হলো। ১৯৫২ সালের এই দিনে তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা রাজপথে নেমে এলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে শহিদ হন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার ও শফিউরসহ নাম না জানা আরও অনেকে। তাঁদের এই অনন্য আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১০ সালে জাতিসংঘ দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে, যা এখন বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে।

দিবসের প্রথম প্রহর রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির সূচনা হয়। আজ শনিবার সরকারি ছুটির দিনে দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে এবং উত্তোলিত হয়েছে শোকের কালো পতাকা। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী প্রদান করেছেন।

ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৪৭ সালের শেষদিকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপ প্রকাশ পায় ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। পুলিশের গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে ২২ ফেব্রুয়ারি ছাত্র-জনতা পুনরায় রাজপথে নেমে আসে এবং গায়েবি জানাজায় অংশগ্রহণ করে। শহিদদের স্মৃতি অম্লান রাখতে ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে প্রথম শহিদ মিনার নির্মিত হয়, যা ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন সরকার গুঁড়িয়ে দেয়।

দীর্ঘ সংগ্রামের পর ১৯৫৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৮৭ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে ‘বাংলা ভাষা প্রচলন বিল’ পাস হয়, যা কার্যকর হয় একই বছরের ৮ মার্চ থেকে। বাঙালির এই জয়যাত্রা কেবল দেশের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং রফিকুল ইসলাম ও আব্দুস সালামের মতো প্রবাসীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এটি বৈশ্বিক স্বীকৃতি লাভ করে।

১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর প্যারিস অধিবেশনে ১৮৮টি দেশের সমর্থনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর ২০১০ সালের ২১ অক্টোবর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে প্রতি বছর এই দিবসটি পালনের প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে পাস হয়। আজ সেই মহান চেতনার দিনে বাঙালি জাতি নতুন করে শপথ নিচ্ছে বাংলা ভাষার মর্যাদা সমুন্নত রাখার এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...