Logo Logo

মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ : কারা ছিলেন ?


Splash Image

শনিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এক ভয়াবহ সমন্বিত হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা নিহত হয়েছেন। রোববার ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘ইরনা’ (IRNA) ৮৬ বছর বয়সী এই আধ্যাত্মিক নেতার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। হামলায় খামেনির পরিবারের সদস্য হিসেবে তার মেয়ে, জামাতা এবং নাতিও প্রাণ হারিয়েছেন।


বিজ্ঞাপন


ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই ঘটনাকে মুসলিম বিশ্ব, বিশেষ করে শিয়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে একটি প্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরান শাসন করা এই নেতার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করে তিনি বলেন, "এই বিয়োগান্তক ঘটনাটি বর্তমান ইসলামি বিশ্বের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।"

ইরনা (IRNA) খামেনি ছাড়াও আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। তারা হলেন—

আলি শামখানি: নবগঠিত ‘প্রতিরক্ষা কাউন্সিল’-এর সচিব এবং খামেনির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা। ৭০ বছর বয়সী এই ঝানু রাজনীতিক ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান আলোচনার মূল তদারককারী ছিলেন। গত শুক্রবারও তিনি আলোচনার সফল সমাপ্তি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। এর আগে ২০২৩ সাল পর্যন্ত টানা ১০ বছর তিনি নিরাপত্তা প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন।

আবদুর রহিম মুসাভি: ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ। গত বছর জুনে ইসরায়েলি হামলার পর তাকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তাকে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, উন্নত ড্রোন এবং মহাকাশ গবেষণার প্রধান কারিগর মনে করা হতো। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে তার ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কঠোর নিষেধাজ্ঞা ছিল।

আজিজ নাসিরজাদেহ: বর্তমান সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান। ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো সুরক্ষিত রাখার মূল পরিকল্পনা ছিল তার। তিনি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানার প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন এবং ফিলিস্তিন ও লেবানন ইস্যুতে ইসরায়েলের কট্টর সমালোচক ছিলেন।

মোহাম্মদ পাকপুর: ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)-র প্রধান কমান্ডার। গত বছর তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আশির দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই সমরনায়ক ১৬ বছর পদাতিক বাহিনীর প্রধান ছিলেন। তার হাত ধরেই ইরানের পদাতিক বাহিনী আধুনিক রূপ লাভ করেছিল।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্যমতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব তিন সদস্যের একটি অস্থায়ী কাউন্সিলের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। এই কাউন্সিলে রয়েছেন— প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই এবং অভিভাবক পরিষদের প্রতিনিধি ধর্মীয় নেতা আলীরেজা আরাফি।

নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত এই কাউন্সিল রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। আল-জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজনী এবং আইআরজিসি অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করছে। আইআরজিসি-র পরবর্তী প্রধান হিসেবে খামেনির নিয়োগ দেওয়া উপ-প্রধান আহমদ ওয়াহিদির নাম জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে।

সূত্র : আল-জাজিরা।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...