ঘুষের টাকা নিচ্ছেন ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) সেলিনা পারভীন।
বিজ্ঞাপন
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ভূমি সংক্রান্ত একটি কাজ দ্রুত ও সহজে করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৯ হাজার টাকা গ্রহণ করেন এবং তা নিজের ব্যাগে রেখে দেন। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “এখানে যা আছে সব খারিজ হবে, কোনো কথা নাই—তুই শুধু টাকা পাঠাবি।”
ভিডিওটি ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে এটিকে প্রশাসনিক দুর্নীতির স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভূমি অফিসে নামজারি ও খারিজসহ বিভিন্ন সেবা পেতে দীর্ঘদিন ধরেই অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ ছিল। তবে ঘুষ লেনদেনের সরাসরি ভিডিও প্রকাশ পাওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নয়াবিল গ্রামের এক ভুক্তভোগী জানান, ২০ শতাংশ জমির নামজারি ও খারিজ করতে গেলে সেলিনা পারভীন তার কাছে ৮ হাজার টাকা দাবি করেন, যেখানে সরকারি নির্ধারিত ফি ছিল মাত্র ১১৭০ টাকা। অতিরিক্ত অর্থের বিষয়ে জানতে চাইলে তাকে বলা হয়, “শুধু সরকারি ফি দিলে কাজ হয় না, উপরের খরচ আছে।” এমনকি অনেকেই ১০–১৫ হাজার টাকা অগ্রিম প্রদান করেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এরই মধ্যে জানা গেছে, ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে গত ১ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়। তবে শোকজের পরও তিনি নিয়মিতভাবে অফিস করছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ আরও বেড়েছে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিসুর রহমান বলেন, বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। ভিডিওর সত্যতা যাচাই করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সাম্প্রতিক অভিযোগ ও শোকজ-পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া না হলে জনমনে আস্থাহীনতা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...