বিজ্ঞাপন
বীরগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে অভিযান চালিয়ে বিষ্ণু সরকারকে ২৫ জুলাই ( শনিবার) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, একটি চেক ডিজঅনার সংক্রান্ত মামলায় (এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারা) বিষ্ণু সরকার দোষী সাব্যস্ত হন। আদালত তাকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন। রায় কার্যকর করতে পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।
তবে এই ঘটনার পেছনে আরও একটি মানবিক ও সামাজিক ট্র্যাজেডির গল্প উঠে এসেছে পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিবারের এক সদস্য বলেন, কয়েক বছর আগেও ওর চাকরি ভালো ছিল। টাকা-পয়সার কোনো অভাব ছিল না। ঘুরে বেড়াত, ভালো খেত, জমিও কিনেছিল। কিন্তু পরে মোবাইলে অনলাইন ক্যাসিনো খেলতে শুরু করে। এরপর একে একে সব শেষ হয়ে যায়। এখন জমিও নেই, সঞ্চয়ও নেই।
তিনি আরও দাবি করেন, বিষ্ণু সরকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অফিসার (ফরেমন কীটনাশক কোম্পানি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চাকরির দায়িত্ব পালনের সময় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনের জন্য তার কাছে কোম্পানির চেক ছিল। কিন্তু খারাপ সঙ্গ ও অনলাইন ক্যাসিনোর নেশায় জড়িয়ে পড়ে তিনি আর্থিক সংকটে পড়েন। পরবর্তীতে সেই চেক সংক্রান্ত জটিলতা থেকেই মামলার সূত্রপাত হয় বলে পরিবারের দাবি।
বিষ্ণু সরকারের স্ত্রী লাকি (২২) কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, শুরুর দিকে ও খুব ভালোভাবে চাকরি করত। পরে খারাপ সঙ্গের কারণে বদলে যায়। আমি অনেকবার অনলাইন ক্যাসিনো খেলতে নিষেধ করেছি, কিন্তু আমার কথা শোনেনি। এখন সংসার কীভাবে চলবে, জানি না। এত বড় ক্ষতির বোঝা নিয়ে আমি কী করব?
বিষ্ণু সরকারের এক প্রতিবেশী বলেন, বিষ্ণু এক সময় এলাকার পরিশ্রমী ও ভদ্র ছেলে হিসেবে পরিচিত ছিল। হঠাৎ করেই তার জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসে। মানুষের সঙ্গে চলাফেরা কমে যায়। পরে শুনি অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। আজকের পরিণতি আমাদের সবার জন্যই একটি শিক্ষা।
বিষ্ণু সরকার যে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন, সেই প্রতিষ্ঠানের এক ম্যানেজার (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল পদে থাকার কারণে তার ওপর আমাদের আস্থা ছিল। কিন্তু দায়িত্ব পালনে অনিয়ম এবং আর্থিক জটিলতার বিষয় সামনে আসার পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কর্মীদের সবসময় আমরা সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দিয়ে থাকি। ব্যক্তিগত ভুল সিদ্ধান্ত একজন কর্মীর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানেরও ক্ষতির কারণ হতে পারে।
বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে বীরগঞ্জ থানা পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি বিষ্ণু সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে পুলিশ সর্বদা আন্তরিক। পরোয়ানাভুক্ত ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।
পরিবারের দাবি অনুযায়ী, একটি স্বচ্ছল পরিবার অনলাইন ক্যাসিনোর নেশার কারণে ধীরে ধীরে আর্থিক ও সামাজিক সংকটে পড়ে ভেঙে গেছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে সব তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবুও তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার ও অনলাইন জুয়ার আসক্তি যে ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, এই ঘটনাটি তার একটি সতর্কবার্তা হয়ে উঠেছে বলে স্থানীয়দের অভিমত।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...