Logo Logo

হরমুজ প্রণালী বন্ধের শঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে রেকর্ড লাফ


Splash Image

ইরান এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ এখন বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর ‘হরমুজ প্রণালী’তে ছড়িয়ে পড়েছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। গত শুক্রবার তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ৭৩ ডলার থাকলেও সোমবার (২ মার্চ) তা ৭৯ দশমিক ৪০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।


বিজ্ঞাপন


ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই জলপথটি বন্ধ ঘোষণা করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, কোনো জাহাজ এই প্রণালী দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে। এই উত্তেজনার ফলে ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ পথে বর্তমানে প্রায় ১৫০টি জাহাজ আটকা পড়ে আছে।

সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা উইন্ডওয়ার্ডের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক মিশেল বকমান আল জাজিরাকে জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার জেরে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অন্তত ৮০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় রুটে পণ্য পরিবহন খরচ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্ব শিপিং শিল্পের ওপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি করছে।

ইতোমধ্যেই ইরানের হামলায় অন্তত পাঁচটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দুইজন ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অধিকাংশ বাণিজ্যিক অপারেটর, বড় তেল কোম্পানি এবং বিমা প্রতিষ্ঠানগুলো এই রুট থেকে তাদের কার্যক্রম সরিয়ে নিয়েছে। কাতারও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে তাদের এলএনজি উৎপাদন স্থগিত করেছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ র‍্যাচেল জিয়েম্বা বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অভিহিত করে বলেন, তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলো এখন আর উপসাগরে প্রবেশ করতে চাইছে না। উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী দিয়ে সরবরাহ করা অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৭০ শতাংশ চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় যায়। এছাড়া ইউরোপের ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের ৩০ শতাংশ এবং বিশ্বের মোট এলএনজি সরবরাহের ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।

নিরাপত্তার স্বার্থে শিপিং কোম্পানিগুলো এখন তাদের জাহাজগুলোকে আফ্রিকার ‘কেপ অফ গুড হোপ’ হয়ে ঘুরিয়ে দিচ্ছে। এতে যুদ্ধকালীন ঝুঁকি বিমা ও জরুরি আপদকালীন মাশুলের কারণে প্রতিটি চালানে হাজার হাজার ডলার অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। সাপ্লাই চেইন প্ল্যাটফর্ম 'ওভারহল'-এর নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেভিড ওয়ারিক জানান, এর ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ করা ইরানের জন্য আত্মঘাতী হতে পারে, কারণ এতে পারস্য উপসাগরীয় অন্যান্য দেশগুলোও যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। তবে এই সংকটে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো লাভবান হলেও সাধারণ ভোক্তা ও বৈশ্বিক উৎপাদন খাত চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...