Logo Logo

নির্ধারিত ফির চেয়ে প্রায় সাতগুণ ফি বেশি আদায়, আশেক মাহমুদ কলেজে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ


Splash Image

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ভর্তি ফি যেখানে প্রায় ৮৩৫ টাকা, সেখানে জামালপুরের সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্স (নিয়মিত) ভর্তি কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোট ৬ হাজার ৫০ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি ফির তুলনায় প্রায় সাতগুণ বেশি অর্থ আদায়ের ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।


বিজ্ঞাপন


জানা যায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত সরকারি অংশ অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন ফি ৮০০ টাকা, স্পোর্টস ও কালচার ২০ টাকা, বিএনসিসি ৫ টাকা এবং রোভার স্কাউট ১০ টাকা—মোট প্রায় ৮৩৫ টাকা নেওয়ার কথা রয়েছে।

তবে কলেজ কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত নোটিশে বিভিন্ন অতিরিক্ত খাত যুক্ত করে মোট ৬,০৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কলেজের নির্ধারিত ফি তালিকা অনুযায়ী বেতন (জুলাই ২০২৩ থেকে জুন ২০২৪) ৩৬০ টাকা, ভর্তি ফি ৩০ টাকা, রেজিস্ট্রেশন ফি ১,৫০০ টাকা, ইনকোর্স পরীক্ষা ফি ৩০০ টাকা, ব্যবস্থাপনা ১০০ টাকা, পরিচয়পত্র ১০০ টাকা, সেশন চার্জ ২,৩৯০ টাকা, সেমিনার ফি ৪৫০ টাকা, মডেল টেস্ট (অনলাইন) ৪৫০ টাকা, শিক্ষা সফর ফি ১২০ টাকা, ক্রীড়া ফি ১০০ টাকা, বিএনসিসি ফি ১০ টাকা, রোভার ফি ১০ টাকা, বিবিধ ফি ১০০ টাকা এবং বিভাগে জমা ১,৫৫০ টাকা—সব মিলিয়ে মোট দাঁড়ায় প্রায় ৬ হাজার ৫০ টাকা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সরকারি কলেজ হওয়া সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হচ্ছে। তারা দাবি করেন, শিক্ষা সফর বা ক্রীড়া কার্যক্রম নিয়মিত না থাকলেও সংশ্লিষ্ট খাতে ফি নেওয়া হচ্ছে। অনলাইন মডেল টেস্ট ও বিভাগীয় জমার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, “সরকারি কলেজে ভর্তি হতে এসে আমাদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো টাকা দিতে হচ্ছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এত টাকা জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়েছে।”

এক অভিভাবক জানান, “সরকারি কলেজে সরকার নির্ধারিত ফি অনুযায়ী অর্থ নেওয়া উচিত। অতিরিক্ত অর্থ আদায় হলে তার স্বচ্ছ ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন।”

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিষয়টি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও জেলা প্রশাসনের নজরদারির আওতায় এনে তদন্ত করা প্রয়োজন। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...