Logo Logo

কর্ণফুলী নদী ভরাট করে ‘তাসনিয়া এন্টারপ্রাইজ’-এর অবৈধ জেটি নির্মাণ, হুমকিতে শাহ আমানত সেতু


Splash Image

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর শাহ আমানত সেতুর (নতুন ব্রিজ) দক্ষিণ প্রান্তে শিকলবাহা এলাকায় নদী ভরাট করে জেটি নির্মাণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ‘তাসনিয়া এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী মো. মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ২০০ মিটার নদী গিলে খেয়ে কৃত্রিম বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে এই জেটিটি স্থাপন করা হয়েছে। জেটিতে দিন-রাত ভারী পাথর লোড-আনলোডের কারণে নদীভাঙনের পাশাপাশি এলাকায় চরম পরিবেশগত বিপর্যয় ও জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছে।


বিজ্ঞাপন


সরেজমিনে তথ্য অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা যায়, শাহ আমানত সেতুর দক্ষিণ প্রান্তের প্রথম সিঁড়ি সংলগ্ন এলাকায় কর্ণফুলী নদীর মূল অংশ ভরাট করে জেটি নির্মাণ করা হয়েছে। বালু, পাথর ও কংক্রিটের মিশ্রণে তৈরি কৃত্রিম বাঁধ দিয়ে নদীর একটি বড় অংশ সম্পূর্ণ গ্রাস করা হয়েছে। সরেজমিনে পরিদর্শনকালে বিদেশ থেকে আসা বড় জাহাজ থেকে এস্কেলেটর ও ক্রেনের মাধ্যমে দেদারসে পাথর খালাস করতে দেখা গেছে সেখানে।

জেটিতে দায়িত্বরত এক সুপারভাইজারের কাছে এই দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, জেটি নির্মাণের জন্য অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। তবে সরকারের কোন সংস্থা বা কোন কর্তৃপক্ষ থেকে নদী ভরাটের এই মরণঘাতী অনুমোদন নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো নথিপত্র দেখাতে পারেননি বা তথ্য দিতে পারেননি।

জানতে চাইলে নদী দখলের সব অভিযোগ অস্বীকার করে তাসনিয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. মোজাম্মেল হক বলেন, “আমরা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) প্রয়োজনীয় অনুমতি ও লাইসেন্স নিয়েই জেটিটি নির্মাণ করেছি। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিবছর বন্দর কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত রাজস্ব ও ভাড়া পরিশোধ করে অনুমতির নবায়নও করে থাকে।”

মোজাম্মেল হকের ভাষ্যমতে, প্রায় চার থেকে পাঁচ বছর আগে নদী তীরবর্তী এই অংশে জেটিটি নির্মাণের পর সেখানে ভারী ক্রেন স্থাপন করা হয় এবং এরপর থেকে নিয়মিতভাবে পাথর ওঠানামার বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তাঁর দাবি, সব কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের শর্ত মেনেই করা হচ্ছে।

তবে নদী ভরাটের এই ভয়াবহ চিত্র এবং লাইসেন্সের দাবির বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (এস্টেট-২) মোহাম্মদ রায়হান উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভোরের বাণীকে জানান, “সুনির্দিষ্ট এই অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে নদী ভরাট করে বা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করে অবৈধভাবে জেটি নির্মাণের কোনো সুযোগ বা নিয়ম নেই।”

তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এমন পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে যদি সত্যিই বন্দরের কোনো বৈধ অনুমতি থেকে থাকে, তবে তা অবিলম্বে দপ্তরে উপস্থাপনের আহ্বান জানাচ্ছি।”

পরিবেশবাদীরা বলছেন, কর্ণফুলী নদী চট্টগ্রামের প্রাণ। এভাবে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুর গোড়া ঘেঁষে নদী ভরাট করে বাণিজ্যিক জেটি নির্মাণ করা একদিকে যেমন সেতুর স্থায়িত্বের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, অন্যদিকে উচ্চ আদালতের নদী রক্ষা নির্দেশনার স্পষ্ট লঙ্ঘন। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত জেলা প্রশাসন ও বন্দর কর্তৃপক্ষের উচ্ছেদ অভিযান চালানো উচিত।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...