ছবি : সংগৃহীত
বিজ্ঞাপন
বিবৃতিতে জানানো হয়, চলমান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর অংশ হিসেবে কয়েক দিন আগে থেকেই মার্কিন এই রণতরীটিকে লক্ষ্যবস্তু করার প্রক্রিয়া শুরু করেছিল তেহরান। এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছিল, তারা আব্রাহাম লিঙ্কনকে লক্ষ্য করে অন্তত চারটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও নিক্ষেপ করেছে। ইরানি সামরিক সূত্রের দাবি, এই হামলায় মার্কিন বাহিনী বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। আইআরজিসি-র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইরানি হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৬৫০ জন মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছেন। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে মার্কিন রণতরীগুলো ওই এলাকা থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান।
সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল ও হামাস-হিজবুল্লাহ সংঘাতকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যে অস্থিরতা শুরু হয়েছিল, মার্কিন রণতরীতে ইরানের এই সরাসরি হামলার দাবি সেই সংঘাতকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। আইআরজিসি এক কড়া সতর্কবার্তায় বলেছে, আগ্রাসনকারীদের জন্য এখন থেকে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ, স্থল ও সমুদ্র হবে এক একটি সমাধিক্ষেত্র; কোনোভাবেই তাদের রেহাই দেওয়া হবে না। তেহরান মনে করে, মার্কিন বিমানবাহী রণতরীকে এলাকা ছাড়া করার মাধ্যমে তারা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনরায় প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এই বিশাল ক্ষয়ক্ষতি বা পিছু হটার দাবির বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আব্রাহাম লিঙ্কনের মতো রণতরী সাধারণত কোনো বাহিনীর সরাসরি আক্রমণের মুখে এভাবে পিছু হটে না। যদি ইরানের এই দাবি আংশিকও সত্য হয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যকে পুরোপুরি বদলে দেবে। এর ফলে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক আধিপত্য যে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভবিষ্যতে এই সংঘাত একটি সর্বাত্মক যুদ্ধের রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...