বিজ্ঞাপন
সকালে সরেজমিনে লঞ্চঘাটে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও তেলের অভাবে লঞ্চটি চলাচল করতে পারেনি। ফলে অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে বিকল্প পথে কাপ্তাই হয়ে রাঙ্গামাটি যাওয়ার চেষ্টা করেন।
স্থানীয় বোরো ধান চাষিরা জানান, ডিজেলের অভাবে সেচ দিতে পারছেন না তারা। এতে ধানক্ষেত শুকিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষকদের ভাষ্য, দ্রুত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে চলতি মৌসুমে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
অন্যদিকে অকটেন ও পেট্রোলের সংকট থাকায় ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলগুলোও ঠিকভাবে চলাচল করতে পারছে না। এতে যাত্রীদের পাশাপাশি চালকরাও আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অনেক পরিবারই এসব যানবাহনের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
প্রবীর তঞ্চঙ্গ্যা নামে এক যাত্রী বলেন, সকালে তেল না থাকায় লঞ্চ ছাড়েনি। জরুরি কাজে রাঙ্গামাটি যেতে পারছি না। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হওয়া প্রয়োজন।
বিলাইছড়ি–রাঙ্গামাটি লাইনের বোটচালক সোহেল জানান, প্রতিদিন আসা–যাওয়ার জন্য অন্তত ৩৫ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। কয়েকদিন ধরে বিলাইছড়িতে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। রাঙ্গামাটি থেকেও জোগাড় করতে না পারায় লঞ্চ চালানো সম্ভব হয়নি। গত বুধবারও একই কারণে বোট চলাচল বন্ধ ছিল।
বিলাইছড়ি–কাপ্তাই লাইনের লাইনম্যান সাগর চাকমা বলেন, কয়েকদিন ধরে জ্বালানি সংকট চলছে। প্রতিদিন তিনটি বোট চলাচল করে, কিন্তু তেলের অভাবে নিয়মিত সার্ভিস রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। জরুরি রোগী ও যাত্রীবাহী নৌযানের জন্য হলেও আলাদা ব্যবস্থা করা দরকার।
রাঙ্গামাটি থেকে আসা লঞ্চচালক মো. সবুজ জানান, তেল পেতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। কখনো দুই থেকে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করে অল্প পরিমাণ তেল পাওয়া যাচ্ছে।
স্থানীয় ইঞ্জিন বোটচালক সুজন ও মনোরঞ্জন চাকমা বলেন, তেল না থাকায় নিয়মিত বোট চালাতে পারছেন না। এতে তাদের পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিলাইছড়ি বাজারের দোকানদার রনজিৎ ও প্রিয়নন্দ বড়ুয়া জানান, চার–পাঁচ দিন ধরে তেল বিক্রি বন্ধ রয়েছে। ক্রেতারা এসে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। রাঙ্গামাটিতে যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না।
স্থানীয়রা দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...