Logo Logo

ধইঞ্চা চাষে উর্বরতা বেড়েছে ডোমার বিএডিসি খামারে


Splash Image

নীলফামারী জেলার ডোমারে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) পরিচালিত ভিত্তি বীজ আলু উৎপাদন খামারে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি, রাসায়নিক সারের ব্যবহার হ্রাস এবং ফসলের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে ব্যাপক পরিসরে ধইঞ্চা চাষ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে খামারটির প্রায় ২০০ একর জমিতে ধইঞ্চা আবাদ করা হয়েছে, যা সবুজ সার হিসেবে ব্যবহারের মাধ্যমে মাটির স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারে এক অনন্য ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


বিজ্ঞাপন


খামার কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ৬০১ একরের এই বিশাল খামারটিতে দীর্ঘদিন ধরে ভিত্তি বীজ আলু উৎপাদন করা হলেও আলু উত্তোলনের পর বিপুল পরিমাণ জমি কয়েক মাস পতিত অবস্থায় পড়ে থাকত। এতে জমির উৎপাদনক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি মাটির পুষ্টিগুণও কমে যেত। বিশেষ করে খামারের অনেক জমিতে বেলে মাটির আধিক্য থাকায় কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া কঠিন ছিল। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে কয়েক বছর আগে পতিত জমিতে ধইঞ্চা চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০২২ সালে বেলে মাটির সঙ্গে এটেল মাটির সংমিশ্রণ এবং নিয়মিত জৈব সার ও ধইঞ্চা ব্যবহারের ফলে জমির গুণগত মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বর্তমানে আলু ছাড়াও বোরো, আউশ ও আমন ধানের ভিত্তি বীজ উৎপাদনেও মিলছে চমৎকার ফলন।

খামারের বর্তমান উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আবু তালেব মিঞা দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পতিত জমিগুলোকে ধীরে ধীরে চাষাবাদের আওতায় আনা শুরু হয়। বর্তমানে খামারটিতে সারা বছর বিভিন্ন মৌসুমভিত্তিক ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে।

ধইঞ্চা ব্যবহারের প্রক্রিয়া সম্পর্কে খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, ধইঞ্চা গাছ যখন ৪ থেকে ৫ ফুট উচ্চতায় পৌঁছায়, তখন ট্রাক্টরের মাধ্যমে হালচাষ করে তা সরাসরি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়। এর মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এসব গাছ পচে শতভাগ খাঁটি জৈব পদার্থে পরিণত হয় এবং মাটির উর্বরতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। কৃষিবিজ্ঞানীদের মতে, ধইঞ্চা একটি উৎকৃষ্ট সবুজ সার, যা মাটির জৈব উপাদান বৃদ্ধি, পানিধারণ ক্ষমতা উন্নয়ন এবং মাটির গঠন ও বুনট উন্নত করতে অত্যন্ত কার্যকর।

ডোমার ভিত্তি বীজ আলু উৎপাদন খামারের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আবু তালেব মিঞা bhorerbani.com.bd-কে বলেন, “চলতি উৎপাদন মৌসুমে আমরা প্রায় ৫০০ একর জমিতে ভিত্তি বীজ আলু ও ব্রিডার বীজ আলু উৎপাদন করেছি। আলু উত্তোলনের পর জমিগুলো পতিত না রেখে প্রতি বছর সবুজ সার হিসেবে ধইঞ্চা চাষ করা হচ্ছে। ধইঞ্চা মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পুষ্টি ধারণ ক্ষমতা ও পানিধারণ ক্ষমতা বাড়ায়, যা পরবর্তী ফসলের জন্য অত্যন্ত উপকারী।”

এর অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “ধইঞ্চা গাছ মাটিতে মিশে যাওয়ার পর প্রতি হেক্টরে প্রায় ৯০ থেকে ১২০ কেজি নাইট্রোজেন সরবরাহ করে, যা প্রায় ২০০ থেকে ২২০ কেজি ইউরিয়া সারের সমতুল্য। ফলে পরবর্তী ফসল উৎপাদনে ইউরিয়া সারের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। দীর্ঘমেয়াদে এটি মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, উৎপাদন খরচ কমানো এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে।”

কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন ও অতিরিক্ত রাসায়নিক সারের অবাধ ব্যবহারের কারণে দেশের অনেক অঞ্চলের মাটির উর্বরতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। এমন বৈরী পরিস্থিতিতে ডোমার বিএডিসি খামারে ধইঞ্চার মতো সবুজ সার ব্যবহারের এই উদ্যোগ টেকসই কৃষি ব্যবস্থাপনার একটি যুগান্তকারী ও কার্যকর উদাহরণ। এটি মাটির জৈব উপাদান সচল রাখার পাশাপাশি ক্ষতিকারক রোগবালাই ও জমিতে আগাছার আক্রমণ কমাতেও দারুণ সাহায্য করে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...