বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) জুম অ্যাপের মাধ্যমে আয়োজিত বিইআরসি-র এক জরুরি সভায় এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১১২ টাকা ৪১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২০২ টাকা ২৯ পয়সা করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি লিটারে সরাসরি ৮৯ টাকা ৮৮ পয়সা বা প্রায় ৮০ শতাংশ দাম বেড়েছে। একইভাবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে প্রতি লিটার ফুয়েলের দাম ০.৭৩৮৪ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১.৩২১৬ ডলার করা হয়েছে, যা প্রায় ৭৯ শতাংশ বৃদ্ধি।
এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এওএবি) মহাসচিব এবং নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, "এভাবে দাম বাড়লে দেশের এয়ারলাইন্স ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। যেখানে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমছে এবং দেশে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, সেখানে আগাম আশঙ্কার ভিত্তিতে ৮০ শতাংশ দাম বৃদ্ধি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।"
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে জেট ফুয়েলের দাম এখন অস্বাভাবিক পর্যায়ে। বর্তমানে কলকাতায় প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ০.৬২ ডলার, দুবাইয়ে ০.৫৮৭ ডলার এবং ব্যাংককে ১.০৯৮ ডলার। সেখানে বাংলাদেশে এই দাম ১.৩২১৬ ডলারে উন্নীত করা হয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও নেপাল দাম অপরিবর্তিত রাখলেও পাকিস্তানে ২৪.৪৯ শতাংশ এবং মালদ্বীপে ১৮.৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাংলাদেশের তুলনায় অনেক কম।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য মতে, গত ২২ দিনে ২৫টি তেলবাহী জাহাজ দেশে এসেছে এবং জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। এই তেলের চালানগুলো আগের নির্ধারিত মূল্যেই কেনা হয়েছে।
এয়ারলাইনস মালিকরা বলছেন, বিইআরসি-র এই সিদ্ধান্তের ফলে এয়ারলাইনস, ট্রাভেল এজেন্সি এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম আর্থিক চাপের মুখে পড়বেন এবং দেশের এভিয়েশন শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়বে। ইতোমধ্যেই এওএবি-র পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক ভিন্নমত পেশ করা হয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...