বিজ্ঞাপন
বুধবার (৩ জুন) বিকেলে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, “একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল জনমানুষের আন্দোলন। এই আন্দোলনের কৃতিত্ব কোনো একক গোষ্ঠীর নয়, বরং যারা দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন, তাদের সবার অবদান এতে রয়েছে।”
তিনি বলেন, “আমাদের নেতা ইলিয়াস আলী আজও নিখোঁজ। চৌধুরী আলমের মতো নেতাদের গুম করা হয়েছে। কয়েক হাজার মানুষ গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগ ও রক্তের মূল্য অবশ্যই জাতিকে স্মরণ রাখতে হবে।”
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “৫ আগস্টের পর আমরা কখনো দাবি করিনি যে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান শুধুমাত্র আমাদের কৃতিত্ব। আমরা কোনো কৃতিত্ব অর্জনের জন্য আন্দোলন করিনি। সাধারণ মানুষের ওপর যখন নির্যাতন-নিপীড়নের মাত্রা সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল, তখনই আমরা প্রতিবাদ ও আন্দোলনে নেমেছিলাম।”
তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান নিশ্চিত করেই আগামী দিনে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য ও চেতনাকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার কাজ করবে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দল মুক্তিযুদ্ধকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছে, আরেকটি দল ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে নিজেদের একক অর্জন হিসেবে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে চায়।
ইশরাক হোসেন বলেন, “২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানেও বহু মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রাজপথে থেকে আন্দোলনকে সফল করতে ভূমিকা রেখেছেন। গুলির মুখে দাঁড়িয়ে তারা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাদের অবদানও জাতিকে স্মরণ রাখতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগের কিছু নেতা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেননি, কিন্তু পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ব্যবহার করে দেশকে লুটপাট করেছেন। এই বাস্তবতা নতুন প্রজন্মের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে।”
বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করা হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। একই সঙ্গে দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের পর জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “গত ১৭ বছরে জাতিকে বিভক্ত করা হয়েছিল। সেই বিভক্তি দূর করে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।”
চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এ.এম. মাহবুব উদ্দিন খোকন, চাটখিল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মনীষ দাশ এবং চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মোন্নাফ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবু হানিফ, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তফা কামাল, সাবেক আহ্বায়ক দেওয়ান সামছুল আরেফিন শামীম, সদস্য সচিব আহসানুল হক মাসুদসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...