বিজ্ঞাপন
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যুদ্ধবিরতির ক্ষেত্রে ইরানের প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পাশাপাশি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে হবে। এছাড়া ভবিষ্যতে ইরানকে লক্ষ্য করে কোনো ধরনের হামলা চালানো হবে না—এ মর্মে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। একই সঙ্গে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা যাবে না বলেও শর্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এসব শর্ত ইরানের কঠোর দরকষাকষির মনোভাবের প্রতিফলন এবং চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যেই তেহরান বড় ধরনের ছাড় আদায়ের কৌশল নিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গত দুই দশক ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সর্বশেষ গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ২১ দিন দুই দেশের মধ্যে সংলাপ অনুষ্ঠিত হলেও তা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়।
এর পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে ইসরায়েল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে পৃথক অভিযান চালায়।
এই যৌথ হামলায় ইতোমধ্যে নিহত হয়েছেন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌরসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। এছাড়া দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংঘাতে এখন পর্যন্ত ২ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যে ভোগান্তি শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখন যুদ্ধবিরতির পথ খুঁজছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এক্ষেত্রে পাকিস্তানকে প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বেছে নিয়েছে ওয়াশিংটন। ইসলামাবাদের মাধ্যমে তেহরানে ১৫ দফা প্রস্তাবও পাঠিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্পের ওই প্রস্তাব আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার জন্ম দেওয়ার মধ্যেই ইরানের পক্ষ থেকে কঠোর শর্ত প্রকাশ্যে এলো বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
সূত্র : রয়টার্স।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...