বিজ্ঞাপন
রোববার (১৯ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, উত্তর ইরাকে ভূপাতিত একটি অবিস্ফোরিত ইরানি ড্রোন নিষ্ক্রিয় করার সময় ১৮ জুলাই সেটি বিস্ফোরিত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই এক মার্কিন সেনা নিহত হন এবং আরও এক সেনা আহত হন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করলেও নিহত সেনার নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি।
সর্বশেষ এই মৃত্যুর ঘটনায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত শুরুর পর থেকে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৭ জনে দাঁড়িয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ সংঘাত চলমান রয়েছে।
এর আগে শুক্রবার জর্ডানে ইরানি হামলায় আরও দুই মার্কিন সেনা নিহত এবং একজন নিখোঁজ হন। রোববার সেন্টকম জানায়, ঘটনাস্থল থেকে অজ্ঞাতপরিচয় দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। সেটির পরিচয় নিশ্চিত করতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
গত মাসে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হামলার মাত্রাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে শত শত স্বল্পমূল্যে উৎপাদিত একমুখী আক্রমণকারী ‘শাহেদ’ ড্রোন ব্যবহার করেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি শাহেদ ড্রোন তৈরিতে প্রায় ৩০ হাজার মার্কিন ডলার ব্যয় হয়। বিপরীতে এসব ড্রোন প্রতিহত করতে ব্যবহৃত প্রতিটি ইন্টারসেপ্টরের মূল্য কয়েক মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতেও ব্যর্থ হয়।
রোববার ইরানের গণমাধ্যম জানায়, যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইরানের সিরিক শহরের কাছে এবং ইরাক সীমান্তবর্তী শাদেগান এলাকায় হামলা চালিয়েছে। পরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আবাদান শহরেও একটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।
এদিকে ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, দেশটির পরমাণু শক্তি সংস্থা দারখোভিনে নির্মাণাধীন একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে মার্কিন হামলার নিন্দা জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, তারা রাতভর সংঘটিত হামলার ঘটনাটি তদন্ত করছে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণের প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের দাবি, সর্বশেষ মার্কিন হামলার জবাবে কুয়েতের আল-আদিরি ক্যাম্প এবং আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ও স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে কুয়েত সরকার জানিয়েছে, টানা দ্বিতীয় দিনের মতো একটি পানি পরিশোধন কেন্দ্রে হামলা হয়েছে। এতে স্থাপনাটিতে আগুন লাগে। কুয়েতের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর সরাসরি হামলা।
এ ছাড়া বাহরাইনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রোববার একটি ইরানি হামলা প্রতিহত করেছে। একই সময়ে জর্ডানে সাইরেন বেজে ওঠে। দেশটির সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা তিনটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে জর্ডান সরকার ইরানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করেছে।
সূত্র: আল জাজিরা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...