Logo Logo

টুঙ্গিপাড়ায় জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পেল পানিবন্দি ৩শ পরিবার


Splash Image

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্নি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে দীর্ঘ তিন বছর ধরে বন্ধ থাকা একটি ভূগর্ভস্থ পানি নিষ্কাশন নলের (কালভার্ট) মুখ উন্মুক্ত করা হয়েছে। ফলে বর্ষাকালে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেয়েছে প্রায় ৩০০ পরিবার।


বিজ্ঞাপন


স্থানীয়দের দাবি, একটি ফেসবুক ভিডিওর মাধ্যমে বিষয়টি আলোচনায় আসার পর গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানীর নির্দেশে সোমবার বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা কালভার্টের মুখে জমে থাকা বালি ও মাটি অপসারণ করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বর্নি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের নাসির সড়কের নিচে সরকারি জায়গায় একটি কালভার্ট ছিল, যার মাধ্যমে বৃষ্টির পানি সরাসরি নদীতে গিয়ে পড়ত। তবে প্রায় তিন বছর আগে পাশের গ্রামের বাবুল শেখ নামে এক ব্যক্তি সরকারি জায়গা দখলের উদ্দেশ্যে সেখানে বালি ও মাটি ভরাট করেন। এতে কালভার্টের মুখ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন বন্ধ থাকায় পুরো এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়রা জানান, এ কারণে বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি গবাদি পশু পালনেও দেখা দেয় নানা সমস্যা। বিষয়টি একাধিকবার জনপ্রতিনিধিদের জানানো হলেও দীর্ঘদিন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

গত শুক্রবার জলাবদ্ধতায় মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে স্থানীয় এক যুবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। এরপর বিষয়টি গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানীর নজরে এলে তাঁর নির্দেশে সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা দিনব্যাপী কাজ করে কালভার্টের মুখে জমে থাকা বালি ও মাটি সরিয়ে দেন। এতে সঙ্গে সঙ্গে পানি নিষ্কাশন শুরু হয় এবং এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটে।

কালভার্টের মুখ উন্মুক্ত করার সময় উপস্থিত ছিলেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ সালাহউদ্দিন আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোক্তার হোসেন, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম, বর্নি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির, সাধারণ সম্পাদক ওলিউর রহমান খানসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাওয়া স্থানীয় বাসিন্দা বাঁকা খাঁ বলেন, তিন বছর আগে সরকারি জায়গা দখলের জন্য মাটি ও বালি ফেলে কালভার্টের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে প্রতি বর্ষায় প্রায় ৩০০ পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়ত। জনপ্রতিনিধিদের জানিয়েও কোনো সমাধান না পেলেও শেষ পর্যন্ত এমপির নির্দেশে কালভার্টটি উন্মুক্ত হওয়ায় এলাকাবাসী স্বস্তি ফিরে পেয়েছে।

একই এলাকার বাসিন্দা রুনা আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় শিশুদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে সমস্যা হতো, বই-খাতাও নষ্ট হয়ে যেত। পাশাপাশি গবাদি পশু পালন এবং দৈনন্দিন কাজকর্মও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতো। কালভার্টের মুখ পরিষ্কার করে পানি চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় এখন পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নুরজাহান জানায়, বাড়ির সামনে পানি জমে থাকায় নিয়মিত স্কুলে যেতে পারত না। এছাড়া জমে থাকা পানির পোকামাকড় ঘর পর্যন্ত চলে আসত। এখন পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা হওয়ায় স্কুলে যেতে আর সমস্যা হবে না বলে সে আশা প্রকাশ করে।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় এক যুবকের ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি সংসদ সদস্য এস এম জিলানীর নজরে আসে। তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা দিনব্যাপী শ্রম দিয়ে কালভার্টের মুখে জমে থাকা বালি ও মাটি সরিয়ে পানি চলাচলের পথ উন্মুক্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিস্বার্থে এমন কোনো কাজ করা উচিত নয়, যাতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...