Logo Logo

পারমাণবিক অস্ত্রই রক্ষাকবচ, ইরানের উদাহরণ টেনে কিমের হুঙ্কার


Splash Image

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক হামলা প্রমাণ করে যে, নিজের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রাখার সিদ্ধান্ত একেবারেই সঠিক ছিল। মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলিতে দেওয়া এক ভাষণে এই মন্তব্য করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ ও আগ্রাসনের’ অভিযোগ তুলে তিনি উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতাকে ‘অপরিবর্তনীয়’ বলে ঘোষণা করেন।


বিজ্ঞাপন


ভাষণে সরাসরি ইরানের নাম উল্লেখ না করলেও কিম জং উন বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতি পরিষ্কারভাবে প্রমাণ করে যে, পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও ‘মিষ্টি কথা’ প্রত্যাখ্যান করে উত্তর কোরিয়া সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।” মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের মতে, ইরান-ইসরায়েল সংঘাত পিয়ংইয়ংয়ের এই ধারণাকে আরও দৃঢ় করেছে যে, পারমাণবিক অস্ত্রহীন দেশগুলো মার্কিন সামরিক শক্তির সামনে চরম অরক্ষিত।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘আসন্ন হুমকি’ হিসেবে অভিহিত করে দাবি করেছেন যে, ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এমন এক সময়ে কিম জং উনের এই ভাষণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও ট্রাম্প পুনরায় উত্তর কোরিয়ার সাথে আলোচনা শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছেন, তবে কিম স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যেকোনো আলোচনায় উত্তর কোরিয়াকে ‘পারমাণবিক শক্তিধর দেশ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং ওয়াশিংটনকে ‘শত্রুভাবাপন্ন নীতি’ ত্যাগ করতে হবে।

উত্তর কোরিয়া বর্তমানে কয়েক ডজন পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা রয়েছে বলে দাবি করছে। সম্প্রতি দেশটি উন্নতমানের দূরপাল্লার ক্রুজ মিসাইল ও রকেটের মহড়াও চালিয়েছে। এছাড়া কিম জং উন তাঁর কিশোরী কন্যা কিম জু আয়ে-কে বিভিন্ন সামরিক প্রদর্শনীতে সামনে নিয়ে আসছেন, যা দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি বংশপরম্পরায় স্থায়ী করার একটি স্পষ্ট বার্তা।

একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধে উত্তর কোরিয়া হাজার হাজার সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি আর্টিলারি শেল ও রকেট সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এর বিনিময়ে পিয়ংইয়ং মস্কোর কাছ থেকে খাদ্য, জ্বালানি এবং সংবেদনশীল সামরিক প্রযুক্তি লাভ করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কট্টর অবস্থান বজায় রাখলেও আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেননি কিম জং উন। সম্প্রতি ওয়ার্কার্স পার্টির কংগ্রেসে তিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার জন্য সামান্য পথ খোলা রেখেছেন।

তবে তিনি পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, আলোচনা হলেও কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করা সম্ভব নয়। ওয়াশিংটনের জন্য এই নতুন ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা মোকাবিলা করা এখন সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: সিএনএন।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...