Logo Logo

হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পাবে বাংলাদেশসহ ৬ দেশের জাহাজ : ইরান


Splash Image

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ছবি: ফেসবুক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই বাংলাদেশের জন্য সুখবর দিয়েছে ইরান। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো নিরাপদে চলাচলের বিশেষ সুযোগ পাবে বলে জানিয়েছে তেহরান। বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকটের এই সময়ে ইরানের এমন সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি ও সরবরাহ চেইন সচল রাখতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।


বিজ্ঞাপন


গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়। তবে ইরান বর্তমানে বাছাই করা কিছু ‘বন্ধুপ্রতিম’ দেশকে এই রুট ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়নি। অনেক দেশ ও জাহাজ মালিক নিরাপদে প্রণালি পার হওয়ার জন্য তেহরানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছে।

আরাঘচি স্পষ্ট করেছেন যে, যেসব দেশকে ইরান বন্ধু মনে করে, তাদের বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য ইরানি সশস্ত্র বাহিনী বিশেষ পাহারার ব্যবস্থা করছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের এই বিশেষ তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক ও ভারতের নাম রয়েছে। ইতিমধ্যে ভারতের দুটি জাহাজ এই সুবিধা নিয়ে প্রণালি পার হয়েছে এবং বাংলাদেশের জাহাজের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমন্বয় করা হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

তবে বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর জন্য পথ খোলা রাখলেও শত্রু রাষ্ট্রগুলোর ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে ইরান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেসব দেশ ইরানের প্রতিপক্ষ বা চলমান যুদ্ধে সরাসরি জড়িত, তাদের কোনো জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে না। যেহেতু পুরো অঞ্চলটি এখন যুদ্ধক্ষেত্র, তাই শত্রুপক্ষ ও তাদের মিত্রদের জন্য এই জলপথ রুদ্ধ থাকবে। বর্তমানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে এই জলপথের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে তেহরান।

শিপিং তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘লয়েডস লিস্ট’ এবং বিশ্লেষণ সংস্থা ‘কেপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী, ১ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় ৯৫ শতাংশ কমে গেছে। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে ১২০টি জাহাজ যাতায়াত করলেও চলতি মাসে মাত্র ১৫৫টি জাহাজ এই পথ অতিক্রম করতে পেরেছে।

মূলত ইসরায়েলি হামলা ও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে ইরান এই জলপথকে কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য ইরানের এই বিশেষ ছাড় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...