Logo Logo

শিলাবৃষ্টিতে শেরপুরে ভুট্টার ব্যাপক ক্ষতি, ঋণের বোঝায় দিশেহারা কৃষক


Splash Image

ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগমুহূর্তে প্রকৃতির বিরূপ আচরণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন শেরপুরের নকলা উপজেলার কৃষকরা। চলতি মার্চ মাসে কয়েকদিনের আকস্মিক শিলাবৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকার ভুট্টাক্ষেত লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। আগাম বৃষ্টির সাথে বজ্রপাত ও ভারী শিলাবৃষ্টি যেন এখানকার প্রান্তিক ভুট্টা চাষিদের জন্য মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঋণের টাকায় আবাদ করা ফসল চোখের সামনে নষ্ট হতে দেখে কৃষকদের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে।


বিজ্ঞাপন


সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নকলা উপজেলার পাঠাকাটা, চন্দ্রকোনা, নারায়নখোলা এবং উরফা ইউনিয়নগুলোতে মাঠের পর মাঠ ভুট্টা গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। পরিপক্ব হওয়ার আগেই ফসল নষ্ট হওয়ায় প্রতি বিঘা জমিতে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন চাষিরা। অনেক কৃষক বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে, আবার কেউ কেউ সার ও কীটনাশক বাকিতে কিনে ভুট্টার আবাদ করেছিলেন। ফসল নষ্ট হওয়ায় এখন তারা রীতিমতো পথে বসার উপক্রম।

কৈয়াকুড়ী গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ) থেকে ৭০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ভুট্টা চাষ করেছিলেন, যা এখন পুরোপুরি নষ্ট। ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপে তিনি চোখে অন্ধকার দেখছেন। একই অবস্থা পাঠাকাটা ইউনিয়নের মুছা মিয়ার; ৭৫ শতাংশ জমিতে আবাদের জন্য তিনিও এসডিএফ থেকে ১ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। অন্যদিকে, ৩২০ শতাংশ জমিতে আবাদ করা মোঃ আফছর আলীর বিস্তীর্ণ ক্ষেতও তছনছ করে দিয়েছে এই শিলাবৃষ্টি। কৃষকদের ঋণের কিস্তির চাপের বিষয়ে এসডিএফ-এর উপজেলা কর্মকর্তা নরেশ রাম ভোরের বাণীকে বলেন, "বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। যেহেতু এখন জানলাম, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।"

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ আঃ ওয়াহেদ খান জানান, নকলায় এবার প্রায় ২ হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ হয়েছে। প্রাথমিক জরিপে ৯ হেক্টর জমির ভুট্টা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে নকলা-নালিতাবাড়ী আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী ভোরের বাণীকে বলেন, "ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে। সরকারি ও বেসরকারিভাবে তাদের সহযোগিতা করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।" এছাড়া, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহাঙ্গীর আলম কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করে পরবর্তীতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের মাঝে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ করতে।

- মোঃ আরিফুর রহমান, শেরপুর।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...