বিজ্ঞাপন
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) গোপালগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি পিটিশন দায়ের করেন।
আদালতের বিচারক কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) মামলাটি এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযুক্তরা হলেন— রেস্টুরেন্টের মালিক ও কাশিয়ানী উপজেলার গোপালপুর গ্রামের সিদ্দিক মোল্যার ছেলে মজনু মোল্যা (৪০) এবং পোনা গ্রামের হিরু মোল্যার ছেলে রাকিব মোল্যা (৩৩)।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত রাকিব মোল্যা ও ভুক্তভোগী নারী উভয়েই ‘কুটুমবাড়ি হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে’ কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। এ সুযোগে রাকিব বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তিনি বিভিন্নভাবে সুযোগ খুঁজতে থাকেন।
একপর্যায়ে গত ১৪ মার্চ রুম পরিষ্কারের কথা বলে কৌশলে ভুক্তভোগী নারীকে হোটেলের একটি নির্জন কক্ষে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে হোটেল মালিক মজনু মোল্যার সহযোগিতায় রাকিব তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। রাকিব মোল্যা হোটেল মালিক মজনুর বোনের দেবর।
ঘটনার পর বিষয়টি জানাজানি হলে সামাজিক লজ্জা ও অপমানের ভয়ে ভুক্তভোগী নারী গুলপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে গুরুতর অবস্থায় হোটেল মালিক মজনু মোল্যা তাকে উদ্ধার করে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। সেখানে তার পাকস্থলী পরিষ্কার (ওয়াশ) করা হয়। সুস্থ হওয়ার পর তিনি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সজীব সরদার বুধবার (১ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিয়ের প্রলোভন ও প্রতারণার মাধ্যমে ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। তারা আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেছেন এবং আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযুক্ত মজনু মোল্যা ও রাকিব মোল্যা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, আদালতের নির্দেশনার কপি পাওয়া গেছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...