Logo Logo

নতুন ভবন নির্মানের দাবি

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে সেবা দিচ্ছে বকশীগঞ্জ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র


Splash Image

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার একমাত্র মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ ভবনে সেবা দিয়ে আসছে। প্রয়োজনীয় সংস্কার, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জনবল সংকটের কারণে প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মাণের দাবিও জোরালো হয়ে উঠেছে।


বিজ্ঞাপন


সরেজমিনে দেখা যায়, কেন্দ্রটির মূল ভবনটি অনেক পুরনো এবং বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ক্ষয়ের চিহ্ন রয়েছে। ছাদের অংশে পানি চুঁইয়ে পড়ার দাগ, দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়া এবং কক্ষগুলোর ভেতরে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। অনেক কক্ষে লাইট ও ফ্যান নষ্ট কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যা যেকোনো সময় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

প্রতিষ্ঠানটির চারপাশে কোনো বাউন্ডারি ওয়াল নেই এবং গেটও কার্যকর নয়। ফলে পুরো এলাকা উন্মুক্ত অবস্থায় রয়েছে। চারদিকে ঝোপঝাড় ও জঙ্গল থাকায় পরিবেশ অনিরাপদ হয়ে উঠেছে এবং বাইরে থেকে সহজে বোঝা যায় না যে এটি একটি সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র।

কেন্দ্রটিতে বর্তমানে মাত্র পাঁচজন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে নাইট গার্ডের পদ শূন্য থাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। বিশেষ করে নারী কর্মীরা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় রোগীদের পর্যাপ্ত সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

কেন্দ্রে একটি অপারেশন থিয়েটার থাকলেও সেটি দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় রয়েছে। ফলে জটিল প্রসব বা জরুরি চিকিৎসা সেবা এখানে প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না। তবুও সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেই সেবা কার্যক্রম চালু রয়েছে। গত মাসে এই কেন্দ্রে ৬টি স্বাভাবিক (নরমাল) ডেলিভারি সম্পন্ন হয়েছে।

এ বিষয়ে কেন্দ্রটির ভিজিটর (FWB) জিন্নাত আরা পলি বলেন, “আমরা খুবই সীমিত জনবল নিয়ে এখানে কাজ করছি। ভবনটি অনেক পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রতিদিন আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। অনেক কক্ষের লাইট-ফ্যান নষ্ট, ছাদের অবস্থাও ভালো না—যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। রাতে কোনো নিরাপত্তা নেই, নাইট গার্ডও নেই। বিশেষ করে আমরা নারী কর্মীরা আরও বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকি। অপারেশন থিয়েটার অচল থাকায় অনেক জরুরি রোগীকে অন্যত্র পাঠাতে হয়। তবুও আমরা চেষ্টা করছি যেন এলাকার মা ও শিশুদের সেবা বন্ধ না হয়।”

এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের TFPA (থানা ফ্যামিলি প্ল্যানিং অ্যাসিস্ট্যান্ট) রুহুল আমিন মুঠোফোনে বলেন, “আমরা এই কেন্দ্রের সার্বিক সমস্যাগুলো নিয়ে একাধিকবার প্রতিবেদন তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, বাউন্ডারি না থাকা, চারপাশে ঝোপঝাড়, লাইট-ফ্যান নষ্ট, জনবল সংকট—সব বিষয়ই উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য আবেদনও করা হয়েছে। আশা করছি, নতুন ভবনের অনুমোদন পেলে এখানে আরও উন্নত পরিবেশে সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ, নিরাপত্তা জোরদার, শূন্যপদে জনবল নিয়োগ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং অপারেশন থিয়েটার সচল করার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...