বিজ্ঞাপন
শনিবার (৪ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে কালিবাড়ি গ্রামের ওই পুকুরপাড়ে শতাধিক নারী-পুরুষ কলসী নিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। তারা দ্রুত পুকুরটি খনন ও পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জলবায়ু ও পরিবেশ বিষয়ক নাগরিক সংগঠন ‘ধরিত্রী রায় আমরা ধরা’-এর পাথরঘাটা উপজেলা সমন্বয়কারী, উপকূল অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও গবেষক শফিকুল ইসলাম খোকন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য জসিম তালুকদার, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এনএসএস’র নার্গিস পারভীন মুক্তি, রাজিব হাসান, নিভা তালুকদার, সমির কুলু, শৈলেন মাঝি, শুভঙ্কর মাঝি, কাকলী রানী, জোৎস্না রানী ও নুপুর রানীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
স্থানীয় বাসিন্দা সমির কুলু ও শৈলেন মাঝি বলেন, “দীর্ঘ বছর ধরে কালিবাড়ি গ্রামসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে সুপেয় পানির তীব্র সংকট চলছে। প্রতি বছর এ মৌসুমে এলাকার সব পুকুর শুকিয়ে যায়, ফলে সংকট আরও বাড়ে। আমাদের এই পুকুরটিও ভরাট হয়ে গেছে। বহু বছর ধরে খননের চেষ্টা করলেও কোনো সরকারি সংস্থা এগিয়ে আসেনি।”
স্থানীয় নুপুর রানী ও কাকলী রানী জানান, “গৃহস্থালির দৈনন্দিন কাজের জন্য আমাদের প্রতিদিন পানির প্রয়োজন হয়, আর সেই পানি এই পুকুর থেকেই সংগ্রহ করতে হয়। বিকল্প কোনো উৎস নেই। পানির মান ভালো কি না জানি না, তবে পুকুরের পানি কালো ও লালচে হয়ে গেছে।”
ইউপি সদস্য জসিম তালুকদার বলেন, “পুকুর খনন ও একটি ফিল্টার স্থাপনের জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগের তীব্রতা বৃদ্ধির ফলে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে। এর পাশাপাশি স্যানিটেশন ব্যবস্থাও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তিনি সুপেয় পানির সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এর মধ্যে পুকুর খনন, খননকৃত পুকুর সংরক্ষণে কাঁটাতার বা গাইডওয়াল নির্মাণ এবং সৌরবিদ্যুৎ চালিত পানি সরবরাহ ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করেন।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয়দের দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।
স্থানীয়দের আশা, দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে দীর্ঘদিনের পানির সংকট থেকে মুক্তি পাবে কালিবাড়ি গ্রামের মানুষ।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...