Logo Logo

ডোমারে আগুনে পুড়ল ৪০ ঘর, নিঃস্ব ১৪ পরিবার


Splash Image

নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৪টি পরিবারের অন্তত ৪০টি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার সদর ইউনিয়নের শাহারুদ্দীন পাড়ায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।


বিজ্ঞাপন


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকালে মনজুর আলীর প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত পুরো এলাকায় ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এতে বসতঘরসহ ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ সবকিছু পুড়ে যায়।

খবর পেয়ে ডোমার ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ও পাশের দেবীগঞ্জ থেকে আরও একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও এর আগেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা লুৎফর রহমান অভিযোগ করে বলেন, “ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়ার প্রায় আধাঘণ্টা পর তারা আসে। প্রথমে পাইপ দিয়ে পানি বের করতে সমস্যা হচ্ছিল। পরে আরও ইউনিট আসার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু তখন সব শেষ হয়ে গেছে।”

ডোমার ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. মমতাজুল ইসলাম বলেন, “আগুনে ১৪টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এলাকায় পর্যাপ্ত পানির উৎস না থাকায় আগুন নেভাতে সময় লেগেছে।” অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত সামিনা বেগম জানান, “আমার মেয়ের বিয়ের জন্য সোনা-রুপার অলংকার ও দুই লাখ টাকা ছিল। সব পুড়ে গেছে। কিছুই বাঁচাতে পারিনি।”

ঘটনার পর রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সাত্তার এবং ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে কাপড় ও শুকনো খাবার বিতরণ করেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন। এ সময় একজন ব্যক্তি বৈদ্যুতিক শকে অসুস্থ হয়ে পড়লে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

এই অগ্নিকাণ্ডে ইসমাইল হোসেন, রেজারুল ইসলাম, আজিজুল ইসলামসহ মোট ১৪টি পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। বর্তমানে তারা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...