বিজ্ঞাপন
একটি মামলার নথিতে ব্যবহারের জন্য তিনি পাউবো বিভাগ-১-এর প্রত্যয়নপত্রকে কম্পিউটার এডিটের মাধ্যমে পাউবো বিভাগ-২-এর প্রত্যয়ন হিসেবে উপস্থাপন করেছেন বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শফিউর রহমান শফি পাউবো বিভাগ-১-এর একজন তালিকাভুক্ত ঠিকাদার। সম্প্রতি স্থানীয় এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৫ কোটি টাকার মানহানি মামলায় নিজের ঠিকাদারি পরিচয় নিশ্চিত করতে তিনি পাউবো বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলমের নিকট থেকে একটি আনুষ্ঠানিক প্রত্যয়নপত্র গ্রহণ করেন। সেই সময় পাউবো বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী তাজকিয়া আহমেদ চিকিৎসাজনিত কারণে ভারতে অবস্থান করায় ওই বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন প্রকৌশলী আশরাফুল আলম।
অভিযোগ উঠেছে, প্রকৌশলী আশরাফুল আলমের দ্বৈত দায়িত্বের সুযোগ নিয়ে ঠিকাদার শফি পাউবো বিভাগ-১-এর মূল প্রত্যয়নপত্রটি কম্পিউটারে পরিবর্তন করেন। তিনি জালিয়াতির মাধ্যমে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে পাউবো বিভাগ-২-এর নাম ব্যবহার করে একটি ভুয়া প্রত্যয়নপত্র তৈরি করে আদালতে পেশ করেন। অনুসন্ধানে দেখা যায়, শফি পাউবো বিভাগ-২-এর তালিকাভুক্ত ঠিকাদারই নন।
এ বিষয়ে পাউবো বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম বলেন, "শফি আমাদের বিভাগ-১-এর তালিকাভুক্ত হওয়ায় আমি তাকে একটি প্রত্যয়ন দিয়েছি। কিন্তু তিনি বিভাগ-২-এর চলতি দায়িত্বের সুযোগ নিয়ে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। আমি তাকে বিভাগ-২-এর কোনো প্রত্যয়ন প্রদান করিনি এবং তিনি এর কোনো মূল কপি দেখাতে পারবেন না। এটি সম্পূর্ণ জালিয়াতি।"
পাউবো বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী তাসকিয়া আহমেদ জানান, শফিউর রহমান তাদের বিভাগের তালিকাভুক্ত ঠিকাদার নন। ফলে তাকে প্রত্যয়ন দেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। যদি তিনি এমন কোনো কাগজ প্রদর্শন করেন, তবে তা নিশ্চিতভাবেই জালিয়াতি।
অভিযুক্ত ঠিকাদার শফিউর রহমান শফি সাংবাদিক রাজীব হাসানের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা স্বীকার করলেও পাউবো বিভাগ-২-এর প্রত্যয়নপত্র জালিয়াতির বিষয়টি এড়িয়ে যান। একজন সরকারি কর্মকর্তার স্বাক্ষর ও সিল জাল করার এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...