বিজ্ঞাপন
জানা যায়, বকশীগঞ্জ উপজেলার নীলাক্ষিয়া ইউনিয়নের জানকিপুর মাঞ্জালিয়া গ্রামের ভিক্ষু মিয়ার ১৪ বছর বয়সী স্কুলপড়ুয়া কন্যা গত ২৪ মার্চ সকালে অপহৃত হয়।
অপহরণের দুই দিন পর, ২৬ মার্চ অপহরণকারীরা ভুক্তভোগীর বড় বোনের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় প্রথমে বকশীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেন ছাত্রীর বাবা। তবে প্রত্যাশিত সাড়া না পেয়ে তিনি জামালপুর জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং কন্যাকে উদ্ধারে সহায়তা চান।
জেলা পুলিশ সুপার ফারহানা ইয়াসমিন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বকশীগঞ্জ থানা পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। এরপর পুলিশ লিখিত অভিযোগের পরিবর্তে একটি অনলাইন জিডি করার পরামর্শ দেয়। সেই অনুযায়ী ভিক্ষু মিয়া ৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ২৬৪ নম্বর জিডি করেন।
জিডির পর অপহরণকারীদের নাম-ঠিকানা পুলিশকে জানানো হলেও ১৯ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এমনকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করার সুযোগও পাননি বলে অভিযোগ পরিবারের।
কন্যাকে উদ্ধারের আশায় প্রশাসন, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সুশীল সমাজ ও সাংবাদিকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ভিক্ষু মিয়া। কিন্তু কোথাও কার্যকর সাড়া পাচ্ছেন না বলে জানান তিনি।
ভিক্ষু মিয়ার দাবি, তার কন্যা বর্তমানে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানার খরিচা শিকারপুর গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে আলিফ মিয়ার জিম্মায় রয়েছে। তিনি ও তার স্ত্রী সেখানে গিয়ে মেয়ের সঙ্গে দেখা করলেও তাকে উদ্ধার করতে পারেননি। সেখানে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ভিক্ষু মিয়া বলেন, “আমি বারবার প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছি, কিন্তু পাইনি। ১০ এপ্রিল পাঁচজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম, কিন্তু তা গ্রহণ করা হয়নি।”
বকশীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মকবুল হোসেন বলেন, “এ বিষয়ে থানায় একটি জিডি হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”
জামালপুর জেলা পুলিশ সুপার সিটিজেন জার্নালকে জানান, “অপহৃত স্কুলছাত্রীকে উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দ্রুত তাকে উদ্ধারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...