বিজ্ঞাপন
সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (আইইডিবি) মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। 'গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ' শীর্ষক সেমিনারে কিনোট পেপার উপস্থাপন করেন তিনি।
গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শিশির মনির বলেন, জগতের কোথাও অভ্যুত্থান সংবিধান মেনে হয় না। কিন্তু এখন রাজনৈতিক বিষয়টিকে আদালতের সাবজেক্ট ম্যাটারে পরিণত করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ১৯ তারিখ উচ্চ আদালত খোলার পর সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়নের প্রশ্নটি উত্থাপিত হবে এবং আদালত সঠিক রায় প্রদান করবে।
সংবিধান সংস্কারের রূপরেখা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, গণভোটের ফল অনুযায়ী ১৮০ দিনের জন্য সংবিধান সংস্কার সভার অধিবেশন ডাকতে হবে। এরপর সংসদ দুই ভাগে বিভক্ত হবে। উচ্চকক্ষ গঠিত হবে ১০০ সদস্য নিয়ে, যেখানে দলগুলো ভোটের সংখ্যানুপাতে আসন পাবে। এই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করাকে ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সুইজারল্যান্ড থেকে শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত ২৬টি দেশের নজির পর্যালোচনা করে এমন কোনো উদাহরণ পাওয়া যায়নি যেখানে সরকার গণভোটের রায় মানেনি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, যখনই রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান আদালতে খোঁজা হয়, তখনই সংকট আরও ঘনীভূত হয়।
সরকারের সমালোচনা করে শিশির মনির আরও বলেন, যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ছাড়া রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিলে তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। জনগণকে অবজ্ঞা করে গৃহীত সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত নিজেদের ওপরই নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...