বিজ্ঞাপন
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় বাদীপক্ষের ৪১ জন এবং আসামিপক্ষের ৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত রায়ের এই দিন ধার্য করেন। নিহত অদিতা নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার মৃত রিয়াজ হোসেন সরকারের মেয়ে। তার মা রাজিয়া সুলতানা বেগমগঞ্জ উপজেলার একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা।
মামলার বিবরণী অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার ‘জাহান মঞ্জিল’ নামক নিজ বাসভবন থেকে অদিতার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে অদিতার গলাসহ হাত ও পায়ের রগ কাটা ছিল। ঘটনার দিন রাতেই পুলিশ অদিতার সাবেক গৃহশিক্ষক আব্দুর রহিম রনিকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের সময় রনির শরীরে ধস্তাধস্তির আঁচড় ও পোশাকে রক্তের চিহ্ন পাওয়া যায়।
জিজ্ঞাসাবাদে রনি হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা ও বালিশসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করে পুলিশ। জানা যায়, অদিতা রনির কাছে পড়া বন্ধ করে অন্যত্র কোচিং শুরু করায় তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন। ঘটনার দিন অদিতার মা বাসায় না থাকার সুযোগে রনি সেখানে প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এতে ব্যর্থ হয়ে বিষয়টি গোপন করতে তিনি অদিতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন এবং ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো করে রাখেন।
অদিতার মা রাজিয়া সুলতানা বলেন, "আমি আমার মেয়ে হত্যার ন্যায়বিচার চাই। খুনি রনির এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক, যা দেখে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।"
উল্লেখ্য, এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর নোয়াখালীসহ দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। দোষীর ফাঁসির দাবিতে সে সময় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ দীর্ঘস্থায়ী মানববন্ধন, বিক্ষোভ এবং সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিল। আজ সেই কাঙ্ক্ষিত রায়ের দিকে তাকিয়ে আছে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...