ছবি সংগৃহীত
বিজ্ঞাপন
নিহতরা হলেন ধর্মপাশা উপজেলার হাবিবুর রহমান ও রহমত উল্লাহ, জামালগঞ্জ উপজেলার নাজমুল হোসেন, তাহিরপুর উপজেলার আবুল কালাম এবং দিরাই উপজেলার লিটন মিয়া। তারা সবাই কৃষিকাজ কিংবা হাওরে হাঁস পাহারা দেওয়ার কাজে ব্যস্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার দুপুরের দিকে হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায় এবং শুরু হয় কালবৈশাখী ঝড়। ঝড়ের সঙ্গে বজ্রপাত ও বৃষ্টিপাত বাড়তে থাকলে হাওরে অবস্থানরত কৃষকরা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আগেই বজ্রাঘাতের শিকার হন। মুহূর্তের মধ্যে ঘটে যায় প্রাণঘাতী এই দুর্ঘটনা।
তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন আবুল কালাম। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে ধর্মপাশা উপজেলার টগার হাওরে বজ্রাঘাতে নিহত হন হাবিবুর রহমান, যিনি বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের ছাত্র ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি পরিবারের সঙ্গে কৃষিকাজে সহায়তা করতেন বলে জানা গেছে।
দিরাই উপজেলার কালিয়াগোটার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে প্রাণ হারান লিটন মিয়া। একই সময়ে জামালগঞ্জ ও ধর্মপাশার পৃথক হাওরেও বজ্রাঘাতে নাজমুল হোসেন ও রহমত উল্লাহর মৃত্যু হয়। ঘটনাগুলোর পর স্থানীয়রা শোকাহত হয়ে পড়েন এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, নিহতদের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টির সময় হাওরে অবস্থান না করার জন্য কৃষকদের সতর্ক করা হচ্ছে।
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাওরে কর্মরত কৃষক ও শ্রমিকদের আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুসরণ করে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, জলাভূমি ও গাছের নিচে অবস্থান না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, হাওরাঞ্চলে বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে আরও সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থা করা জরুরি। এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতদের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম, আর কৃষক সমাজে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...