বিজ্ঞাপন
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, টুঙ্গিপাড়া উপজেলার কুশলী ইউনিয়নের বাসিন্দা ভুলু মিয়া শেখ একজন সাধারণ দরিদ্র কৃষক। দুই ছেলে ও এক মেয়ের অভাবের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরোলেও ছেলেকে নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখতেন তিনি। বাবার সেই স্বপ্নের প্রতিদানও দিচ্ছিল অন্তর। কঠোর পরিশ্রম আর মেধার জোরে সে ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ-প্লাস অর্জন করে। পরিবার ও প্রতিবেশীদের মুখে ফুটেছিল গর্বের হাসি।
কিন্তু সেই আনন্দ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। এসএসসি পাসের পরপরই হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে অন্তর। উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, অন্তরের শরীরে বাসা বেঁধেছে দুরারোগ্য ব্যাধি ব্লাড ক্যান্সার। এই খবর শোনার পর মুহূর্তেই ধূলিসাৎ হয়ে যায় একটি স্বপ্নভরা পরিবারের সব আনন্দ। যে ঘরে একদিন ভবিষ্যতের গল্প হতো, আজ সেখানে শুধুই নীরব কান্না আর অসহায়ত্ব।
চিকিৎসকদের মতে, অন্তরকে সুস্থ করে তুলতে দ্রুত উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন, যার জন্য ব্যয় হবে প্রায় ১৬ লাখ টাকা। একজন দরিদ্র কৃষকের পক্ষে এই বিশাল অঙ্কের টাকা জোগাড় করা অসম্ভব।
ছেলের জীবন বাঁচাতে ইতোমধ্যে সর্বস্ব হারিয়েছে পরিবারটি। বসতভিটা ছাড়া তাদের কোনো চাষের জমি নেই। চিকিৎসার খরচ মেটাতে পরিবারের একমাত্র সম্বল গাভীটিও বিক্রি করে দিয়েছেন বাবা ভুলু শেখ। আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় এ পর্যন্ত প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয় করে এক মাসের মতো চিকিৎসা চালানো সম্ভব হলেও, এখন টাকার অভাবে চিকিৎসা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে সময়ের চাপ, আর ভারী হচ্ছে অনিশ্চয়তা।
অন্তর শেখের বাবা ভুলু শেখ বলেন, আমি একজন গরিব কৃষক, নিজেও বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ থাকায় ঠিকমতো কাজ করতে পারি না। ছেলের চিকিৎসা করানোর মতো কোনো সামর্থ্য আর আমার অবশিষ্ট নেই। যা ছিল সব শেষ করে ফেলেছি। আমি দেশবাসীর কাছে আমার সন্তানের জীবন ভিক্ষা চাই, দয়া করে আমার ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে অন্তরের মা বলেন, আমার স্বপ্ন ছিল ছেলে লেখাপড়া শিখে অনেক বড় হবে, মানুষের সেবা করবে। কিন্তু আল্লাহ আমাদের কেন এমন পরীক্ষায় ফেললেন জানি না। এখন আল্লাহ ছাড়া আমাদের আর কেউ নেই। আর দিনভর নাতির জন্য জায়নামাজে বসে কাঁদছেন অন্তরের বৃদ্ধা দাদী।
স্থানীয় বাসিন্দা তাহের শেখ অন্তরের প্রশংসা করে বলেন, অন্তর অত্যন্ত নম্র, ভদ্র ও মেধাবী ছেলে। আমাদের এলাকায় ওর মতো ভালো ছেলে পাবেন না। আমরা ওকে নিয়ে গর্ব করি। ওর বাবা খুবই গরিব। মানবিক দিক বিবেচনা করে সমাজের মানুষ যদি একটু সহযোগিতার হাত বাড়ায়, তবে ছেলেটার চিকিৎসা চালানো সম্ভব। প্রতিবেশী নবনী শিকদারও অন্তরের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে সবাইকে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
স্থানীয়দের বিশ্বাস, সঠিক সময়ে উন্নত চিকিৎসা পেলে অন্তর আবারও সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে। একটি মেধাবী প্রাণ আজ বেঁচে থাকার তীব্র লড়াইয়ে অবতীর্ণ। সমাজের বিত্তবান, মানবিক সংগঠন ও প্রবাসী ভাইদের সামান্য সহানুভূতি ও আর্থিক সহযোগিতাই পারে অন্তরের চোখে আবারও স্বপ্নের আলো ফুটিয়ে তুলতে, তাকে ফিরিয়ে দিতে এক নতুন জীবন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...