বিজ্ঞাপন
গতকাল মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) বিকেল ৪টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত নড়াইল জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এক দীর্ঘ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আতাউর রহমান বাচ্চুর নির্দেশনা এবং জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল সালামের নির্দেশে এই সভার আয়োজন করা হয়। নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লিংকন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লিংকন বিশ্বাস জানান, উভয় পক্ষের সম্মতিতে নির্মিত সীমানা প্রাচীরটি অপসারণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। ব্যারিস্টার দেদার-ই-এলাহী প্রাচীরটি সরিয়ে নিয়ে মালোপাড়ার বাসিন্দাদের চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা ছেড়ে দেবেন, যেখানে একটি নতুন রাস্তা নির্মিত হবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই সংকটের একটি স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধান নিশ্চিত হলো।
মালোপাড়ার বাসিন্দা ভুক্তভোগী সুশান্ত বিশ্বাস এই সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, "দীর্ঘ আলোচনার পর বিষয়টির একটি সুন্দর সমাধান হয়েছে। আমাদের চলাচলের জন্য নতুন রাস্তার জায়গা দেওয়ার সিদ্ধান্তে আমরা সবাই খুশি।" অন্যদিকে, ব্যারিস্টার দেদার-ই-এলাহীর প্রতিনিধি মো. দেদার নিশ্চিত করেছেন যে, আজ বুধবার সকাল থেকেই প্রাচীর অপসারণের কাজ শুরু হবে।
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল সালাম জানান, বিষয়টি অবগত হওয়ার পরপরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এই সমাধান নিশ্চিত করা হয়েছে।
নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আতাউর রহমান বাচ্চু এই প্রসঙ্গে বলেন, "বিষয়টি জানার পর থেকেই আমি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করেছি। আলোচনার মাধ্যমে একটি সুন্দর সমাধান হয়েছে এবং খুব দ্রুত সেখানে নতুন রাস্তা নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
উল্লেখ্য, লক্ষ্মীপাশা মৌজার সাবেক ২৬১ এবং আর.এস ২০২৮ দাগের জমির একটি অংশ স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াতের পথ হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলেন। গত ১৬ এপ্রিল ওই স্থানে একটি সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হলে অন্তত ২৫টি সংখ্যালঘু জেলে পরিবারের চলাচলের একমাত্র পথটি বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ও বিরোধের সৃষ্টি হলে প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপে তা নিরসন হয়।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ওই সভায় নড়াইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. কামরুজ্জামান, লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী কায়সার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুম্মিতা সাহা, বিএনপি নেতা টিপু সুলতান এবং নড়াইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম. এম. মাহবুবুর রশিদ লাবলুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...