বিজ্ঞাপন
১৩৩৩ বঙ্গাব্দে শ্রী বাবু প্রাণ নাথ সরকার এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রায় শতবর্ষ প্রাচীন এই মন্দিরটি ঘিরে রয়েছে এলাকার দীর্ঘ ইতিহাস। সম্প্রতি মন্দিরটিকে নতুন করে সংস্কার ও সজ্জিত করা হয়েছে, যা এর প্রাচীন সৌন্দর্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সরেজমিনে মন্দিরটি পরিদর্শনকালে মন্দিরের সভাপতি রওশন বাবু জানান, এখানে নিয়মিতভাবে অভিজ্ঞ ব্রাহ্মণ ও পুরোহিত দ্বারা সকল ধরনের পূজা-পার্বণ ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি উৎসবে স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মন্দির প্রাঙ্গণে এক আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতা পেলে এই প্রাচীন মন্দিরটি জেলার অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে।
এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠ বাসিন্দা ভূবন চন্দ্র (৭০) স্মৃতিচারণ করে বলেন, এক সময় এই মন্দিরে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মানুষের উপচে পড়া ভিড় থাকত। কালের বিবর্তনে এখন প্রায় প্রতিটি এলাকাতেই মন্দির গড়ে উঠেছে, তবুও এই ঐতিহাসিক মন্দিরের প্রতি মানুষের টান ও আনাগোনা আজও অম্লান। স্থানীয় তরুণ হিমান রায় (৩০) জানান, তাদের পূর্বপুরুষদের আমলে প্রতিষ্ঠিত এই মন্দিরের খ্যাতি ছিল চারদিকে। বড় বড় পূজা অনুষ্ঠানে দূর-দূরান্ত থেকে নামকরা ব্রাহ্মণরা আসতেন পূজা সম্পন্ন করতে।
রামনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জিতেন্দ্র রায় এই মন্দিরের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “এই মন্দিরগুলো কেবল ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং আমাদের স্থানীয় সম্প্রদায়ের অগাধ বিশ্বাস এবং দীর্ঘ ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে সগৌরবে টিকে আছে।”
নীলফামারীর রামনগরের এই শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দিরটি সংস্কারের মাধ্যমে এর পুরনো জৌলুস ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হলেও, স্থানীয়দের দাবি— সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে এর ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করা গেলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এক অনন্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...