বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীর স্রোত অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। এতে করে নদীতীরবর্তী এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দেয়। প্রতিবছরই ঘরবাড়ি, আবাদি জমি, গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ইতোমধ্যে গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান, ওয়াক্তিয়া মসজিদ, দোকানপাট ও বসতবাড়িসহ কয়েক একর ফসলি জমি নদীতে তলিয়ে গেছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় গত বছর ড্রেজার মেশিন বসিয়ে ব্যাপক হারে বালু উত্তোলনের ফলে ভাঙনের তীব্রতা বহুগুণ বেড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও নদীতীর রক্ষা বা স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তর কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। গত কয়েক বছরে নদীর পূর্ব তীরের অন্তত ৫০০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
এলাকাবাসী আব্দুল ওয়াদুদ ও হাবিবুর রহমানসহ অনেকেই বলেন, “বাপ-দাদার ভিটেমাটি একে একে নদীতে চলে যাচ্ছে। দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ছাড়া আমাদের বাঁচার আর কোনো উপায় নেই।”
ভাঙনকবলিত এলাকাজুড়ে টেকসই বাঁধ নির্মাণে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।
চলতি ২০২৪–২৫ অর্থবছরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সাড়ে পাঁচ টন জিআর (গ্রাটুইটাস রিলিফ) চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে সীমিত পরিসরে প্যালাসাইডিং ও জিওটেক্স বালুর বস্তা ফেলা হলেও কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।
নকলা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন শামীম বলেন, “আমাদের দপ্তরের পক্ষে স্থায়ী নদীরক্ষা বাঁধ নির্মাণ সম্ভব নয়। সীমিত বরাদ্দ দিয়ে অস্থায়ী কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরে আলম তালুকদার ভুট্টো বলেন, “আমার ইউনিয়নের বেনীরগোপ গ্রামটি ভোগাই নদীর ভাঙনের ফলে বিলীন হতে বসেছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।”
নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহাঙ্গীর আলম জানান, “বেনীরগোপ ও পিছলাকুড়ি এলাকার ভাঙন পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভাতেও বিষয়টি একাধিকবার উপস্থাপন করা হয়েছে। ভাঙন রোধে একটি টেকসই প্রকল্প গ্রহণ জরুরি।”
উল্লেখ্য, নকলা ও নালিতাবাড়ী উপজেলার ভোগাই নদীর ভাঙনকবলিত এলাকাসমূহে স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের জন্য শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই জোর দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে ভোগাই নদীর অব্যাহত ভাঙনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে বেনীরগোপ গ্রামের বাসিন্দারা। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে পুরো গ্রামটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...