বিজ্ঞাপন
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ সেলিমুজ্জামান সেলিমকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান বলে জানিয়েছেন। তাদের মতে, তিনি একজন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিবিদ এবং সততার প্রতীক। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ জেলায় সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর জনপ্রিয়তা আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
কাশিয়ানী ও মুকসুদপুর উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রত্যাশা, মন্ত্রিসভায় স্থান পেলে সেলিমুজ্জামান সেলিম সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করতে সক্ষম হবেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম, ত্যাগ, নিষ্ঠা ও তৃণমূলভিত্তিক নেতৃত্বের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন।
স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ও মানবিক ভূমিকার কারণে নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষের কাছে তিনি আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত সেলিমুজ্জামান সেলিম রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন সক্রিয় ও সাহসী কণ্ঠস্বর। ছাত্ররাজনীতি দিয়েই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক, সিনেট সদস্য, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের প্রথম যুগ্ম সম্পাদক এবং যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। ১৯৯৮ সাল থেকে প্রায় ২৫ বছর ধরে গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী ও মুকসুদপুর উপজেলা বিএনপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি।
সময়ের পরিক্রমায় তিনি সংগঠনের একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করা, রাজনৈতিকভাবে সচেতন করে তোলা এবং দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোর কারণে তাঁর প্রতি কর্মীদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা আরও গভীর হয়েছে।
তবে তাঁর রাজনৈতিক পথ সবসময় মসৃণ ছিল না। বিগত সরকারের আমলে দীর্ঘদিন নানা ধরনের নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশনায় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিভিন্ন জনদাবি আদায়, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সমস্যা সমাধান, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সরকারবিরোধী আন্দোলনসহ নানা কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।
দলের প্রচার-প্রচারণামূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকার কারণে ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময়ও তাঁর ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া বিগত দেড় দশকে বিভিন্নভাবে রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হয়েছেন তিনি। জাতীয়তাবাদী আদর্শের একজন পরীক্ষিত অনুসারী হিসেবে দলের ভেতরে যেমন তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, তেমনি সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা।
গোপালগঞ্জ-১ আসনের জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার উন্নয়ন, শিক্ষা, যোগাযোগব্যবস্থা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
মুকসুদপুর পৌরসভার বাসিন্দা দ্বীন ইসলাম বলেন, “একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি সবসময় মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকেন। দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধানে কাজ করার চেষ্টা করেন।”
বরাশুর গ্রামের বাসিন্দা মো. ইকরামুজ্জামান মোল্যা ওরফে ইয়ার মোল্লা বলেন, “কাশিয়ানী-মুকসুদপুরবাসীর প্রাণের দাবি হচ্ছে গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিমকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা। তিনি সততা ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে রাজনীতি করেন এবং দলমত নির্বিশেষে একজন জনবান্ধব নেতা হিসেবে পরিচিত।”
তিনি আরও বলেন, “এলাকার উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা ও শিল্প খাতে তাঁর অবদান সাধারণ মানুষের কাছে প্রশংসিত। মন্ত্রী হলে তিনি জাতীয় পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
এদিকে শিক্ষাবিদদের মধ্যেও একই প্রত্যাশা দেখা গেছে। কাশিয়ানী এম এ খালেক কলেজের অধ্যক্ষ কে এম মাহমুদ বলেন, “গোপালগঞ্জ জেলায় বর্তমানে কোনো মন্ত্রী নেই। অথচ এই জেলা প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার তিনটি আসনেই বিএনপি জয়লাভ করেছে। তাই এ অঞ্চল থেকে একজন যোগ্য ও অভিজ্ঞ নেতাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা সময়ের দাবি।”
তিনি আরও বলেন, “সেলিমুজ্জামান সেলিম শিক্ষিত, দক্ষ ও উন্নয়নমুখী নেতৃত্বের অধিকারী। তাঁকে মন্ত্রী করা হলে গোপালগঞ্জসহ ফরিদপুর বিভাগের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও বেগবান হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, পরিচ্ছন্ন ও জনসম্পৃক্ত নেতাদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করলে সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে। সেই বিবেচনায় সেলিমুজ্জামান সেলিমের নাম আলোচনায় থাকাটা স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন তারা।
স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা, উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সরকার সেলিমুজ্জামান সেলিমকে মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...