অভিযুক্ত শিক্ষা কর্মকর্তা সুলেমান মিয়া।
বিজ্ঞাপন
বালিজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা লুৎফা আক্তার সম্প্রতি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অভিযোগপত্রে ওই শিক্ষিকা উল্লেখ করেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সুলেমান মিয়া দীর্ঘদিন ধরে হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ভিডিও কলের মাধ্যমে তাকে উত্যক্ত করে আসছিলেন। বিভিন্ন সময়ে অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগ এবং আপত্তিকর ও ইঙ্গিতপূর্ণ কথাবার্তার মাধ্যমে তাকে ব্যক্তিগত ও অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে তিনি চরমভাবে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষিকা জানান, বিষয়টি তিনি আগে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহনলাল দাসকে অবহিত করেছিলেন। তখন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, অভিযুক্ত কর্মকর্তা ভবিষ্যতে আর কোনো যোগাযোগ করবেন না এবং ওই শিক্ষিকার কর্মস্থলও পরিদর্শন করবেন না। একইসঙ্গে ঘটনাটি যেন আর জানাজানি না হয় এবং কোনো তথ্য-প্রমাণ প্রকাশ না করা হয়, সে বিষয়েও তাকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
লুৎফা আক্তারের দাবি, কুপ্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তা প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠেন। সম্প্রতি প্রাক-প্রাথমিকের ‘ফোর প্লাস’ প্রশিক্ষণের জন্য বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তার নাম প্রস্তাব করলেও শেষ মুহূর্তে তাকে বাদ দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, সুলেমান মিয়া উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লুৎফা আক্তারকে বাদ দিয়ে অন্য একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষিকাকে বালিজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচয়ে ওই প্রশিক্ষণে পাঠিয়েছেন, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত।
এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর শিক্ষক সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষকরা কর্মস্থলে এমন হয়রানিমূলক আচরণের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিধি মোতাবেক যথাযথ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...