বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (১৫ মে) রাতে জমকালো সমাপনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ মেলার সফল সমাপ্তি ঘটে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
কোটালীপাড়া উপজেলার উনশিয়া গ্রামে কবির পৈতৃক ভিটায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন যৌথভাবে এই মেলার আয়োজন করে। এর আগে, গত বুধবার (১৩ মে) সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধূরী আনুষ্ঠানিকভাবে এই মেলার উদ্বোধন করেছিলেন।
৩ দিনব্যাপী আয়োজিত এই মেলা কবি, সাহিত্যিক, শিল্প ও সংস্কৃতি অঙ্গনের ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে। কবির পৈতৃক ভিটা সংলগ্ন মাঠে ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলারও আয়োজন করা হয়। গ্রামীণ এই মেলায় কুটির শিল্পে উৎপাদিত পণ্য, বাহারি খেলনা ও রকমারি খাদ্য পণ্যের দোকান বসেছিল। পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের বিনোদনের জন্য নাগরদোলাসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় রাইডের ব্যবস্থা ছিল।
সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে সংগীত, শিক্ষা ও সামাজিক ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৩ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিম, গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী, গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফ রফিকউজ্জামানসহ প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তারা।
সমাপনী আলোচনা শেষে কোটালীপাড়া উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা আবৃত্তি, নৃত্য ও গীতিনাট্য ‘চণ্ডালিকার মেয়ে’ পরিবেশন করেন। এরপর দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত বরেণ্য শিল্পীরা রাত ১১টা পর্যন্ত সংগীত পরিবেশন করে উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করেন।
মেলা প্রসঙ্গে কোটালীপাড়া উপজেলার ধারাবাসাইল সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক কবি মিন্টু রায় জানান, কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মের অনেক আগেই তাঁর পিতা নিবারণ ভট্টাচার্য উনশিয়া গ্রামের বাড়ি ফেলে কলকাতায় চলে যান। ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতার কালীঘাটের মহিম হালদার স্ট্রিটে কবি জন্মগ্রহণ করেন। তবে কলকাতায় বসেই মা সুনীতি ভট্টাচার্যসহ অনেকের মুখে পিতৃপুরুষের এই ভিটার কথা শুনেছিলেন তিনি। মানবতাবাদী কবির কাছে এই পৈতৃক ভিটা ছিল পরম শ্রদ্ধার বস্তু। ১৯৪৭ সালের ১৩ মে মাত্র ২১ বছর বয়সে এই মহান কবি পরলোক গমন করেন।
বাংলাদেশ স্বাধীনের পর কবির পৈতৃক ভিটা বেদখল হয়ে গেলেও পরবর্তী সময়ে সরকার দখলদারদের উচ্ছেদ করে। এরপর গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সেখানে একটি আধুনিক লাইব্রেরি কাম অডিটোরিয়াম নির্মাণ করা হয় এবং কলকাতার ‘কিশোর বাহিনী’ অডিটোরিয়ামের সামনে কবির একটি আবক্ষ মূর্তি স্থাপন করে। নতুন প্রজন্মের কাছে কিশোর কবির ত্যাগ, আদর্শ, চেতনা ও সংগ্রামী জীবনকে ছড়িয়ে দিতে ১৪ বছর আগে থেকে এই মেলার আয়োজন শুরু হয়। মেলায় কবি ও সাহিত্যিকদের আড্ডা, স্বরচিত কবিতা পাঠ, বাউল, জারি, কবি গান, পালা গান ও যাত্রাপালার আয়োজন করা হয়। এই মেলা শেষ হওয়ায় এখন আবার এক বছরের অপেক্ষার পালা শুরু হলো।
কোটালীপাড়া উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক দীলিপ ভাবুক বলেন, কবি মাত্র ২১ বছর বয়সে মারা যান এবং মাত্র ৭ বছর সাহিত্য চর্চা করার সুযোগ পান। এই অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি বাংলা সাহিত্যকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তরুণ এই বিপ্লবী কবি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সাহসী কবিতা লিখেছেন এবং পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে দেশকে মুক্ত করতে আজীবন লড়েছেন। তিনি বিশ্বকে শিশুর বাসযোগ্য করে যেতে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। তাই এই কবিকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও বেশি করে তুলে ধরতে হবে।
সংস্কৃতি কর্মী বিথি বিশ্বাস ও মাদারীপুর থেকে আসা কথা সাহিত্যিক রিপন চন্দ্র মল্লিক মেলার সার্বিক পরিবেশের প্রশংসা করে বলেন, মেলাটি আলোচনা, আড্ডা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অত্যন্ত প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিল। আগামীতে আরও বড় পরিসরে ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে এই মেলা আয়োজনের দাবি জানান তারা।
স্থানীয় বালিয়াভাঙ্গা স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী ঐশি গর্ব প্রকাশ করে বলে, কোটালীপাড়াকে সবাই কবি সুকান্তের বাড়ি হিসেবে চেনে। প্রতিবছর এখানে এসে কবি সুকান্তকে আরও গভীরভাবে জানার সুযোগ হয়।
কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাগুফতা হক বলেন, আগামীতেও এই মেলার আয়োজন অব্যাহত থাকবে। নতুন প্রজন্মের কাছে কিশোর কবি সুকান্তের আদর্শকে আরও নান্দনিক ও বিভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপন করার জন্য প্রশাসনিক সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...