Logo Logo

শ্রমিকের উচ্চ মূল্যে বিপাকে কৃষক

কোটালীপাড়ায় নিজ হাতে ধান কেটে কৃষকের বাড়ি পৌঁছে দিলেন এমপি জিলানী


Splash Image

ছবিতে- (১ম জন) ধানের বোঝা মাথায় নিয়ে যাচ্ছেন এমপি জিলানী।

অতিরিক্ত মজুরির কারণে শ্রমিক সংকটে পড়ে জমির পাকা ধান ঘরে তুলতে পারছিলেন না গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার ধারাবাশাইল গ্রামের পাঁচজন অসহায় কৃষক-কৃষাণী। মাঠের ধান মাঠেই নষ্ট হওয়ার উপক্রম হলে খবর পেয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে নিজেই কাস্তে হাতে মাঠে নামেন গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী। শুধু ধান কাটাই নয়, সেই ধান মাথায় করে কৃষকদের বাড়িতেও পৌঁছে দিয়েছেন তিনি।


বিজ্ঞাপন


শনিবার (১৬ মে) ভোর ৬টা থেকে শুরু করে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপজেলার ধারাবাশাইল গ্রামে এই ব্যতিক্রমী স্বেচ্ছাশ্রম কর্মসূচি চালানো হয়। দীর্ঘ সাত ঘণ্টার এই অভিযানে ওই এলাকার পাঁচজন প্রান্তিক চাষির প্রায় ৫ বিঘা জমির ধান কেটে ঘরে তুলে দেওয়া হয়।

স্থানীয় কৃষক অমূল্য অধিকারী ও হরষিত অধিকারী তাঁদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আমরা অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় ছিলাম। বর্তমানে এক জন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা। এত উচ্চ মূল্যে শ্রমিক খাটিয়ে ধান কাটার সামর্থ্য আমাদের ছিল না। ফলে খেতের পাকা ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। আমাদের এই দুর্দশার খবর পেয়ে এমপি এস এম জিলানী নিজে এসে নেতাকর্মীদের নিয়ে ধান কেটে দেন এবং মাথায় করে তা আমাদের বাড়িতে পৌঁছে দেন। এতে আমাদের অনেক বড় উপকার হয়েছে।

একই গ্রামের কৃষাণী শোভা অধিকারী নিজের আপ্লুত অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ। গ্রামের অন্য সবার ধান কাটা শেষ হয়ে গেলেও আমি আমার খেতের ধান কাটতে পারছিলাম না। একে তো শ্রমিকের অভাব, তার ওপর টাকার সংকট। এমন দুঃসময়ে এমপি জিলানী নিজে এসে আমার খেতের ধান কেটে দিয়েছেন, যা আমার জন্য এক বিশাল পাওয়া।

এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য এস এম জিলানী বলেন, আমরা মাটি ও মানুষের রাজনীতি করি। ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি এই ধান কাটার মৌসুমে কৃষকদের কতটা সংকটের মুখোমুখি হতে হয়। সবার ধান একসাথে পাকার কারণে বাজারে পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যায় না। আর একজন সাধারণ কৃষকের পক্ষে ১২০০-১৪০০ টাকা মজুরি দিয়ে শ্রমিক নেওয়া অত্যন্ত কষ্টকর।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সব সময় গণমানুষের অধিকার ও সুখে-দুঃখে পাশে থাকে। সেই রাজনৈতিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই অসহায় কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে আমরা সপ্তাহব্যাপী ধান কাটা কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। তারই ধারাবাহিকতায় আজ ধারাবাশাইল গ্রামের অসহায় কৃষক-কৃষাণীদের পাশে দাঁড়িয়েছি এবং এই সেবাধর্মী কার্যক্রম আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...