বিজ্ঞাপন
রোববার (১৭ মে) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী বিদ্যালয়ের সামনের প্রধান সড়কে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এই স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভে শতাধিক ক্ষুব্ধ অভিভাবক অংশ নেন।
উপজেলা শিক্ষা অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সহকারী শিক্ষক তপতী বাড়ৈর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, চরম স্বেচ্ছাচারিতা, নিয়মিত ক্লাস ফাঁকি দেওয়া, অবোধ শিক্ষার্থীদের প্রতি অমানবিক আচরণসহ গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ এনে এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছিলেন। একপর্যায়ে তার স্থায়ী বদলির দাবিতে অভিভাবকেরা টানা দুইদিন সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানো বন্ধ করে দেন। এই অচলাবস্থার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শিক্ষক তপতী বাড়ৈকে মৌখিকভাবে অন্য একটি বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে স্থানান্তর করেন।
পরবর্তীতে গঠিত তদন্ত কমিটি তপতীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তাকে শাস্তিস্বরূপ লঘু দণ্ড প্রদান করেন এবং স্থায়ী বদলির সুপারিশ করেন। তবে অতি সম্প্রতি শিক্ষক তপতী বাড়ৈ তার ওই মৌখিক ডেপুটেশন বাতিলের আদেশ চেয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে নতুন করে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়, যার জেরে তারা পুনরায় আন্দোলনে নামেন।
আন্দোলনরত অভিভাবক শাহানাজ বেগম বলেন, “আমার দুটি সন্তান এই বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে। আমাদের সন্তানদের সুশিক্ষার স্বার্থে এবং তাদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অদক্ষ ও মামলাবাজ শিক্ষক তপতী বাড়ৈর স্থায়ী বদলির জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছি। শিক্ষা অফিসের তদন্তে সব অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পরও কেন তাকে স্থায়ীভাবে বদলি করা হচ্ছে না, তা আমাদের বোধগম্য নয়।”
আরেক অভিভাবক বোরহান খান অভিযোগ করে বলেন, “আমরা বহুবার তার অনিয়মের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। উল্টো তিনি আমাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখান। তার ব্যক্তিগত জীবনও বিতর্কিত এবং তার কারণে এই বিদ্যালয়ে ভালো কোনো শিক্ষক টিকতে পারেন না। আমরা কর্তৃপক্ষকে ৩ দিনের আলটিমেটাম দিচ্ছি; এর মধ্যে তার স্থায়ী বদলি না হলে আমরা আমাদের সন্তানদের এই বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে নেব।”
বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সভাপতি হোসেন মোল্লা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যেখানে বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী বা অভিভাবক তাকে এখানে চায় না, সেখানে তিনি ডিপিইও ও টিওসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নামে মামলা করে এই স্কুলেই থাকার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। এর আগে অভিভাবকদের আন্দোলন ও অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ করায় তিনি একজন সাংবাদিক এবং এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেছিলেন। আমরা জানতে চাই, শিক্ষক নামের কলঙ্ক এই তপতী বাড়ৈর এত অপশক্তির উৎস কোথায়?”
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে কোটালীপাড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন ভক্ত বলেন, “তপতী বাড়ৈর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তার স্থায়ী বদলির জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আমাদের কাছে ৩টি শূন্য বিদ্যালয়ের তালিকা চেয়েছিলেন। আমরা অনেক আগেই সেই তালিকা প্রেরণ করেছি। এখন কেন তার স্থায়ী বদলির আদেশ জারি হচ্ছে না, সেটি সম্পূর্ণ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের এখতিয়ার।”
এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, গণমাধ্যমের সামনে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে কোনো ধরনের বক্তব্য দিতে রাজি হননি অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক তপতী বাড়ৈ।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...