Logo Logo

ফেঞ্চুগঞ্জে সারকারখানায় আধিপত্য নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ২


Splash Image

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে অবস্থিত শাহজালাল সার কারখানায় আধিপত্য বিস্তার ও অ্যামোনিয়া গ্যাস সিলিন্ডারের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে মোয়াজ্জেম হোসেন সাহেদ ও আব্দুল হামিদ রাজু নামের দুই ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন।


বিজ্ঞাপন


গতকাল বুধবার (২০ মে) দুপুর ১২টার দিকে সার কারখানার অভ্যন্তরে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। ঘটনার পর থেকে কারখানা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহজালাল সার কারখানায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। কারখানায় অ্যামোনিয়া গ্যাস সিলিন্ডারের একাধিক ডিলার থাকলেও মূলত হাতেগোনা কয়েকজন পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করেন। এই নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক ভাগাভাগি নিয়ে নিজেদের মধ্যে তৈরি হওয়া মনোমালিন্যই বুধবার দুপুরে সহিংস সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছে।

আহত আব্দুল হামিদ রাজুর দাবি, কারখানার অভ্যন্তরে ট্রাকে অ্যামোনিয়া গ্যাস সিলিন্ডার লোড করার সময় মোয়াজ্জেম হোসেন সাহেদ তার ২০-২৫ জনের দলবল নিয়ে বাধা প্রদান করেন। ওই সময় সাহেদ তার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সাহেদ ও তার অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি মাথায় ও হাতে গুরুতর আঘাত পান।

অন্যদিকে, আহত মোয়াজ্জেম হোসেন সাহেদ গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তার বক্তব্য সরাসরি পাওয়া যায়নি। তবে তার অনুসারী সাইফুল ইসলাম মিটু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রাজু সার কারখানার 'সলিড হ্যান্ডলিং' ঠিকাদার। তিনি অবৈধভাবে কারখানার দৈনিক মজুরির শ্রমিকদের দিয়ে নিজের ঠিকাদারি কাজ করিয়ে বিল তুলে নেন। পাশাপাশি রাজু অ্যামোনিয়া গ্যাস সিলিন্ডার লোড-আনলোডে চাঁদাবাজি করেন। এই অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গেলে রাজু ও তার লোকজন সাহেদের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে।

সার কারখানার অভ্যন্তরে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে শাহজালাল সার কারখানার উপ-ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) হাফিজ উদ্দিন খান জানান, ঘটনার সময় তিনি কারখানার বাইরে দাপ্তরিক কাজে ছিলেন। তবে কারখানার ভেতরে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির বিষয়টি তিনি শুনেছেন।

ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল কবির জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পরিবেশ শান্ত করে। এই ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তিসাপেক্ষে তদন্তপূর্বক পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রতিবেদক- মোঃ আব্দুর রহমান বাবুল, ফেঞ্চুগঞ্জ, সিলেট।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...